বেইজিং বৃহস্পতিবার একটি সংবাদসভার মাধ্যমে জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের চীনকে সীমাবদ্ধ করার কোনো প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই বছর চীনকে নিয়ন্ত্রণের অগ্রাধিকার দেবে বলে ঘোষণা করেছে, তবে দু’দেশের মধ্যে শালীন সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং বিন সংবাদসভার সময় উল্লেখ করেন, “প্রমাণ দেখায় যে চীনকে সীমাবদ্ধ বা বাধা দেওয়ার কোনো প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক, যাতে সম্পর্ক উন্নত হয়।”
এই বিবৃতি প্রকাশের কয়েক দিন পরে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল (NDS) প্রকাশিত হয়। নথিতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরে চীনকে শক্তি দিয়ে নিরুৎসাহিত করবে, তবে সরাসরি সংঘর্ষের বদলে শক্তি ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেবে। এটি পূর্বের পেন্টাগন নীতি থেকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, যেখানে চীন ও রাশিয়াকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হতো।
পূর্বের NDS, যা জো বাইডেনের শাসনামলে প্রকাশিত হয়েছিল, চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তবে নতুন নথিতে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে “শালীন সম্পর্ক” বজায় রাখার আহ্বান করা হয়েছে, এবং তাইওয়ানকে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, যদিও চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।
নতুন কৌশল তবুও প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খলায় (First Island Chain) একটি “শক্তিশালী প্রত্যাখ্যান প্রতিরক্ষা” গড়ে তোলার পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করেছে, যেখানে জাপান ও তাইওয়ান অন্তর্ভুক্ত। জিয়াং বিন যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানান, “চীনের মূল স্বার্থের বিষয়গুলোতে এক কথা বলার পাশাপাশি অন্য কাজ করা বন্ধ করুন,” এবং চীনের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এপ্রিল মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সুযোগ দেবে। এই সফরকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক সংলাপের প্রত্যাশা বাড়ছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলগত পরিকল্পনা এবং চীনের নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় প্রয়োজন।
ডিসেম্বরে, যুক্তরাষ্ট্রের তাইওয়ানের প্রতি অস্ত্র বিক্রয়ের পরিমাণ বাড়ার ফলে বেইজিং তাইওয়ানের চারপাশে সরাসরি গুলি চালানোর সামরিক অনুশীলন চালু করে। এই অনুশীলনটি চীনের নিরাপত্তা স্বার্থের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখায় এবং অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল চীনের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের পরিবর্তে প্রতিরোধমূলক শক্তি গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেয়, তবে তাইওয়ান ও প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয়গুলো এখনও সংবেদনশীল। উভয় দেশের কূটনৈতিক কথোপকথন এবং সামরিক প্রস্তুতি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সংলাপের পাশাপাশি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর এবং শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা উভয় দেশের কৌশলগত লক্ষ্যকে পুনঃপর্যালোচনা করার সুযোগ দেবে। তবে, চীনের দৃঢ় অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা একসঙ্গে কাজ না করলে আঞ্চলিক উত্তেজনা পুনরায় বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, বেইজিংয়ের বক্তব্য স্পষ্ট যে চীনকে সীমাবদ্ধ করার কোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষা নীতি চীনকে শালীনভাবে মোকাবেলা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। তবে তাইওয়ান ও প্রথম দ্বীপ শৃঙ্খলা সম্পর্কিত কৌশলগত বিষয়গুলো এখনও উভয় পক্ষের জন্য সংবেদনশীল, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।



