22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাকক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সরানো যাবে না, বেবিচক সদস্য এয়ার কমোডোর নুর ই...

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সরানো যাবে না, বেবিচক সদস্য এয়ার কমোডোর নুর ই আলমের মন্তব্য

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারিত রানওয়ে নিয়ে চলমান বিতর্কে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এর এয়ার কমোডোর নুর ই আলম ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবন্দরের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমান রানওয়ের কোনো অংশ সরানো বা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, বায়ু-সামুদ্রিক সমন্বয় বিবেচনা করে, সমুদ্রের বুকে নির্মিত এই রানওয়ে নৌ চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না এবং তাই বিআইডব্লিউটিএ (বেসামরিক বিমান চলাচল ও জলপথ উন্নয়ন বোর্ড) কর্তৃক প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে না।

কমোডোর নুর ই আলমের মতে, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল, ফলে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক নৌযানের চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই ভিত্তিতে কোনো অতিরিক্ত সম্প্রসারণের দাবি বাস্তবিকভাবে অপ্রয়োগযোগ্য, কারণ তা বিদ্যমান অবকাঠামোর অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করবে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াবে।

বেবিচক সদস্যের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, অতিরিক্ত সচিব ও বেবিচক সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. নুরুল হুদা, বেবিচক এর পরিচালক (সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) ও উপ-সচিব সানিউল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাধারণ যাত্রী, এয়ারলাইন কর্মী এবং বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররাও অংশগ্রহণ করে প্রশ্নোত্তর সেশনকে সমৃদ্ধ করেন।

কমোডোরের মন্তব্যের ব্যবসায়িক প্রভাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রানওয়ের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হওয়ায় কক্সবাজারের বর্তমান ক্যাপাসিটি বজায় থাকবে, তবে বড় আকারের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রয়োজনীয় দীর্ঘতর রানওয়ে না থাকলে ভবিষ্যতে বিমান সংস্থাগুলোর রুট পরিকল্পনা সীমিত হতে পারে। ফলে, আন্তর্জাতিক পর্যটক ও বাণিজ্যিক কার্গো প্রবাহে সম্ভাব্য বৃদ্ধি ধীরগতি পেতে পারে, যা স্থানীয় হোটেল, রিসোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট সেবা খাতের আয়কে প্রভাবিত করতে পারে।

অন্যদিকে, বেবিচক সব ধরণের কাজ সম্পন্ন করার দাবি এবং সরকারকে যেকোনো সময় আন্তর্জাতিক মানের ঘোষণা দেওয়ার সক্ষমতা উল্লেখ করা, বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেলে কক্সবাজারের পর্যটন বাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, বিদেশি সরাসরি ফ্লাইটের সম্ভাবনা বাড়বে এবং এয়ারলাইনগুলোকে নতুন রুট চালু করার প্রণোদনা দেবে। এই দিক থেকে, স্থানীয় রিয়েল এস্টেট, হসপিটালিটি এবং লজিস্টিক্স সেক্টরে বিনিয়োগের আগ্রহ পুনরায় জাগ্রত হতে পারে।

তবে, রানওয়ের সম্প্রসারণের অস্বীকারের ফলে দীর্ঘমেয়াদে কক্সবাজারের বিমানবন্দরকে বড় আকারের জেট এয়ারক্রাফ্ট গ্রহণে অক্ষমতা একটি ঝুঁকি হিসেবে রয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিকল্প কৌশল যেমন টার্মিনাল উন্নয়ন, সেবা মানোন্নয়ন এবং ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার শক্তিশালীকরণে মনোযোগ দিতে হবে।

বেবিচক সদস্যের এই বক্তব্যের পর, শিল্প বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সরকার যদি দ্রুত আন্তর্জাতিক ঘোষণা করে, তবে কক্সবাজারের জন্য নতুন এয়ারলাইন অংশীদারিত্ব এবং কোড-শেয়ারিং চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা বাড়বে। একই সঙ্গে, বিমানবন্দরের বর্তমান রানওয়ে ব্যবহারযোগ্যতা বজায় রেখে, টার্মিনাল সুবিধা ও গ্রাউন্ড সার্ভিসে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে, সীমিত রানওয়ে দৈর্ঘ্য সত্ত্বেও ক্যাপাসিটি বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, নুর ই আলমের মন্তব্য কক্সবাজার বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করেছে, তবে বেবিচক ও সরকারকে আন্তর্জাতিক মানের ঘোষণা দিয়ে বাজারে আত্মবিশ্বাস জোগানোর সুযোগও তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে রানওয়ে সম্প্রসারণের বিকল্প না থাকলে, টার্মিনাল উন্নয়ন ও সেবা মানোন্নয়নের মাধ্যমে বিমানবন্দরের প্রতিযোগিতামূলকতা বজায় রাখা এবং পর্যটন ও বাণিজ্যিক প্রবাহকে ত্বরান্বিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments