মহেশ বাবু ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের প্রধান ভূমিকায় অভিনীত ‘ভারাণসী’ চলচ্চিত্রের থিয়েটার মুক্তির তারিখ সরকারিভাবে নির্ধারিত হয়েছে। স. স. রাজমৌলীর পরিচালনায় তৈরি এই বৃহৎ বাজেটের ফ্যান্টাসি অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার ড্রামা ৭ এপ্রিল ২০২৭-এ প্রথমে পর্দায় আসবে।
মুক্তির দিনটি গুডি পাডওয়া, উগাদি এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের নববর্ষ উদযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা দর্শকদের উৎসবের আনন্দের সাথে সিনেমা উপভোগের সুযোগ দেবে। এই সময়ে চলচ্চিত্রের প্রকাশনা বক্স অফিসে প্রাথমিক উচ্ছ্বাস বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের জন্য এই প্রকল্পটি ভারতীয় চলচ্চিত্রে ফিরে আসার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যেহেতু তিনি দীর্ঘ বিরতির পর আবার বলিউডের বড় স্ক্রিনে উপস্থিত হচ্ছেন। চলচ্চিত্রটি একাধিক ভারতীয় ভাষা এবং বিদেশি ভাষায় মুক্তি পাবে, যা বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নির্দেশ করে।
গত বছর প্রকাশিত টিজার থেকে ‘ভারাণসী’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। টিজারটি দর্শকদের কল্পনাশক্তি উস্কে দেয় এবং মহেশ বাবু ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের প্রথম যৌথ উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।
প্রধান সহায়ক চরিত্রে প্রিথভিরাজ সুকুমারান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তার উপস্থিতি গল্পের গঠনকে সমৃদ্ধ করবে এবং মূল চরিত্রগুলোর সঙ্গে জটিল সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে চলচ্চিত্রটি বিশাল দলকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এম. এম. কীরবানি সঙ্গীত রচনা করেছেন, মোহন বিংগি প্রোডাকশন ডিজাইন পরিচালনা করছেন, পি. এস. বিনোদ চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে আছেন, বিক্কিনা থাম্মিরাজু সম্পাদনা করছেন এবং ভি. শ্রীনিবাস মোহন ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট তত্ত্বাবধান করছেন।
‘ভারাণসী’ প্রথম ভারতীয় এবং প্রথম অ-ইংরেজি চলচ্চিত্র হিসেবে ১.৪৩:১ IMAX ফরম্যাটে শুট করা হবে। এই প্রযুক্তিগত পদক্ষেপটি দর্শকদের জন্য বিশাল স্ক্রিনে গভীর ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত শিরোনাম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রের তিনটি প্রধান চরিত্রের প্রথম লুক পোস্টার প্রকাশ করা হয়। মহেশ বাবু রুদ্রের ভূমিকায়, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস মন্দাকিনী এবং প্রিথভিরাজ সুকুমারান কুম্ভা হিসেবে প্রকাশিত হয়। পোস্টারগুলোতে পৌরাণিক ও মহাকাব্যিক থিমের ছাপ স্পষ্ট।
দৃশ্যমান দিক থেকে চলচ্চিত্রটি রঙের সমৃদ্ধি, বিশাল সেট এবং চমকপ্রদ ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের মাধ্যমে দর্শকের ইন্দ্রিয়কে মুগ্ধ করার লক্ষ্য রাখে। রাজমৌলীর স্বাক্ষর শৈলীর সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মিশ্রণ নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতীয় সিনেমার সম্ভাবনা তুলে ধরবে।
প্রযোজনার পরিমাণ এবং বাজেটের মাত্রা উল্লেখযোগ্য, যা উচ্চমানের কাস্ট, টেকনিক্যাল টিম এবং বিশাল স্কেলিংকে সমর্থন করে। এই ধরনের বিনিয়োগ চলচ্চিত্রকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
বিতরণ পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘ভারাণসী’ শুধুমাত্র ভারতীয় শহরগুলোতেই নয়, বিদেশের বহু দেশে একসাথে মুক্তি পাবে। বহু ভাষায় ডাবিং এবং সাবটাইটেল সহ বিশ্বব্যাপী দর্শকের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, চলচ্চিত্রের গল্পের বিস্তারিত এখনো গোপন রাখা হয়েছে, তবে প্রথম লুক পোস্টার থেকে দেখা যায় যে কাহিনীর পটভূমি পৌরাণিক ও আধুনিক উপাদানের মিশ্রণ। মুক্তির দিন নিকটবর্তী হওয়ায় দর্শকরা ইতিমধ্যে বড় পর্দায় এই মহাকাব্যিক যাত্রা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।



