শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি’র আমির, আজ (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা‑১২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সাইফুল আলম খান নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, তিন মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি ও তার দল ছেড়ে যায়নি।
এই সভা সকালবেলা অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকগণ শফিকুরের বক্তব্যের জন্য উন্মুক্তভাবে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, “দু–একজন নেতা এখন বলছেন, ঠিক আছে আমরা এত অসৎ ছিলাম, আপনারা এত সৎ ছিলেন তো ছেড়ে গেলেন না কেন? আমরা ছেড়ে যাইনি এ কারণে অন্তত তিনটা মন্ত্রণালয় বেঁচে যাক। দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পাক।” এই উক্তি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
শফিকুরের মতে, জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, যদিও বিএনপি সরকারের তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, তবুও তাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি অভিযোগ তোলা যায়নি। তিনি এ বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ওই সময়ে কোনো অভিযোগের অভাবই তাদের পরিষ্কার রেকর্ডের প্রমাণ।
বিএনপি সরকারকে দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন বলে সমালোচনা করার পর, গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান একই বিষয় তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও দুজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিল। বিএনপি যদি অতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেননি? কারণ, তাঁরা সরকারে ছিলেন এবং ভালো করেই জানতেন যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছেন।” শফিকুর এই প্রশ্নের উত্তর হিসেবে তারেকের মন্তব্যকে উল্লেখ করেন।
শফিকুরের বক্তব্যের ধারায় তিনি ব্যাখ্যা করেন, জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ না করার মূল কারণ হল দেশের মন্ত্রণালয়গুলোকে দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করা। তিনি বলেন, “আমি রাজনীতি করব, আমি চাঁদাবাজিও করব, কিন্তু আমাকে চাঁদাবাজ বলবেন না। এটা কোনো কথা! তাহলে আপনি চাঁদাবাজি ছেড়ে দেন। আপনাকে কেউ চাঁদাবাজ বলবে না। আপনি যখন চাঁদাবাজি করবেন, তখন এ কথা আপনাকে শুনতে হবে যে, আপনি একজন চাঁদাবাজ।” এই উক্তি তার রাজনৈতিক কৌশল ও নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক উস্কে দেয়।
জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে এসে “We want justice” স্লোগান দিয়েছিল। শফিকুর এই ঘটনাকে উল্লেখ করে বলেন, “রাজপথে এসে তারা একটাই স্লোগান দিয়েছিল উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা কোনো বৈষম্য, অবিচার মানব না। এই সমাজে অবশ্যই ন্যায়বিচার কায়েম করতে হবে এবং সাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, “এই যে চাঁদাবাজ, এই যে দখলবাজ, এই যে মামলাবাজ, এই যে দুর্নীতিবাজ এই সবগুলো বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে সাধারণ জনগণের ওপরে এসে ছোঁ মারে।”
শফিকুরের মন্তব্যে কৃষক, পরিবহন মালিক, হোলসেল ও রিটেইলার ব্যবসায়ীরা চাঁদার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই গোষ্ঠীগুলোর ক্ষতি সরাসরি মন্ত্রণালয়গুলোর দুর্নীতিমুক্ত পরিচালনা না হওয়ার ফল।
এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, জামায়াত-এ-ইসলামি’র এই রণনীতি ভবিষ্যতে নির্বাচনী জোটের গঠন ও সরকার গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। শফিকুরের দাবি যে তিন মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি থেকে রক্ষা করা হবে, তা ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে আলোচনার সূচনা করতে পারে।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই শফিকুরের মন্তব্যকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছে। তবে শফিকুরের স্পষ্ট বক্তব্যের ভিত্তিতে, আগামী নির্বাচনে জামায়াত-এ-ইসলামি কীভাবে মন্ত্রণালয়গুলোকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, শফিকুরের এই রেলিভেন্ট মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে দুর্নীতি মোকাবিলার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



