রাজশাহী শহরের মাদ্রাসা মাঠে বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমের ফলের সংরক্ষণ ও আঞ্চলিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের কৃষকদের আর্থিক স্বস্তি দিতে হিমাগার ও পদ্মা ব্যারেজের কাজ জরুরি।
তাঁরেক রহমানের মতে, বর্তমান সময়ে রাজশাহীর আমবাগানগুলোতে ফল সংরক্ষণের জন্য কোনো আধুনিক হিমাগার নেই, ফলে উৎপাদন‑পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলছেন, সরকারী তহবিল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই অঞ্চলে বিশেষভাবে আমের জন্য হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনা চালু করা হবে।
হিমাগার নির্মাণের লক্ষ্য কেবল ফলের শেলফ‑লাইফ বৃদ্ধি নয়, বরং কৃষকদের বাজারে উচ্চমূল্য অর্জনের সুযোগ তৈরি করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হিমাগারগুলোকে বিদ্যমান রোড নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করে রপ্তানি সম্ভাবনাও বাড়ানো হবে।
পদ্মা ব্যারেজের বিষয়েও তারেক রহমান স্পষ্ট লক্ষ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে পদ্মা নদীর ওপর ব্যারেজ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। এই প্রকল্পের সম্পন্ন হওয়া পুরো উত্তরাঞ্চলের পানির সরবরাহ, সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র রাজশাহী নয়, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পঞ্চগড়ের কৃষকদেরও প্রত্যাশিত। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যারেজের মাধ্যমে সেচের পরিমাণ বাড়বে, ফলে ফসলের ফলন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আয় স্থিতিশীল হবে।
তারেক রহমানের বক্তব্যে পুরনো ‘বরেন্দ্র প্রকল্প’কে পুনরুজ্জীবিত করার ইঙ্গিতও রয়েছে। তিনি জানান, শি. জিয়াউর রহমানের সময় চালু হওয়া এই প্রকল্পটি তখন দেশের খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ বাড়াতে সহায়তা করেছিল, কিন্তু পরের বছরগুলোতে কার্যকরী না হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়ে।
বিএনপি নেতা উল্লেখ করেন, বরেন্দ্র প্রকল্পের বাজেট প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ছিল, তবু প্রকল্পটি ধীরগতিতে অগ্রসর হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এখন এই প্রকল্পকে সঠিকভাবে চালু করে, নদী ও খালের ড্রেডিং কাজ সম্পন্ন করা দরকার, যাতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হয়।
ড্রেডিং কাজের মধ্যে প্রধান লক্ষ্য হল পদ্মা নদীর পাশাপাশি এলাকার ক্ষুদ্র খালগুলোকে পরিষ্কার করা, যাতে সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হয়। তারেক রহমানের মতে, এই ধাপগুলো সম্পন্ন হলে কৃষি উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে তিনি ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দেন, যা যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে। এই নীতি বিশেষ করে ছোট কৃষকদের জন্য উপকারী হবে বলে তিনি আশাবাদী।
বিএনপি এই ঘোষণাগুলোকে নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যেখানে তিনি সমর্থকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বলছেন, “আপনাদের সমর্থন থাকলে আমরা ধানের শীষ সরকার গঠন করতে পারি এবং এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব।” তিনি আরও যোগ করেন, “সবার সহযোগিতায় আমরা এই অঞ্চলকে সমৃদ্ধি পথে এগিয়ে নিতে পারব।”
প্রতিপক্ষ দলগুলো এখনো এই প্রতিশ্রুতিগুলোর উপর কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, হিমাগার ও ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ এবং তহবিলের যথাযথ বরাদ্দ ছাড়া কঠিন হতে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহে বিএনপি দলীয় কর্মীরা পরিকল্পিত প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা প্রস্তুত করে নির্বাচনী র্যালি চালিয়ে যাবে। যদি ভোটে তাদের প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জিত হয়, তবে হিমাগার নির্মাণ, পদ্মা ব্যারেজ ও বরেন্দ্র প্রকল্পের পুনরায় চালু করা সরকারী অগ্রাধিকারে থাকবে। এই ধারাবাহিকতা উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।



