দিল্লি উচ্চ আদালত সম্প্রতি জে.আর. এনটিআর (নন্দামুরি তর্কা রামা রাও জুনিয়র) এর ব্যক্তিত্ব ও পাবলিসিটি অধিকার রক্ষার জন্য একটি আদেশ প্রদান করেছে। আদালত তার নাম, ছবি, চেহারা এবং সংশ্লিষ্ট সব চিহ্নের অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি ডিজিটাল যুগে সেলিব্রিটি পরিচয়ের অপব্যবহার নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এসেছে। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনধিকৃত বাণিজ্যিক ব্যবহার তার সুনাম ও গুণগত মানকে ক্ষতি করতে পারে।
অভিযোগকারী অভিনেতা দীর্ঘ সময় ধরে তার পরিচয় চিহ্নের অবৈধ ব্যবহার নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলেন। তিনি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করে তৈরি কন্টেন্টের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আবেদন করেন। আদালত তার পিটিশন বিবেচনা করে দেখেছে যে, তার পরিচয় চিহ্নগুলো ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে, আদালত তার ব্যক্তিত্ব অধিকার রক্ষার জন্য জরুরি রিলিফ প্রদান করে।
আদালত বিশেষভাবে নিম্নলিখিত চিহ্নগুলোকে সুরক্ষার আওতায় এনেছে: “NTR”, “Jr. NTR”, “NTR Jr.”, “Tarak”, “Nandamuri Taraka Rama Rao Jr.”, “Jr. Nandamuri Taraka Rama Rao” এবং জনপ্রিয় উপাধি “Man of Masses” ও “Young Tiger”। এই সব নাম ও উপাধি তার পরিচয়কে অনন্যভাবে প্রকাশ করে এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের দ্বারা ব্যবহার করা হলে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে। এছাড়া, তার ছবি, চেহারা এবং সংশ্লিষ্ট পার্সোনালিটি রিলেটেড উপাদানগুলোও একই রকম সুরক্ষার অধীন হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, কোনো অননুমোদিত ব্যবহার চিহ্নিত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলতে হবে।
আদালত রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, জে.আর. এনটিআর ইতিমধ্যে ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় সেলিব্রিটি হিসেবে স্বীকৃত। তার দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার এবং বিশাল ভক্তবৃন্দের মাধ্যমে তিনি বিশাল গুডউইল ও সুনাম গড়ে তুলেছেন। তাই তার নাম, ছবি ও চেহারা জনসাধারণের দৃষ্টিতে এককভাবে তার সঙ্গে যুক্ত, যা তাকে ব্যক্তিত্ব অধিকার প্রদান করে। এই স্বীকৃতি তার সেলিব্রিটি মর্যাদা ও আইনি সুরক্ষার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
বৈধ দৃষ্টিকোণ থেকে আদালত উল্লেখ করেছে যে, ব্যক্তিত্ব ও পাবলিসিটি অধিকার ভারতের সংবিধানের ধারা ১৯ ও ২১ এর অধীনে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। এই অধিকারগুলো কপিরাইট আইন ১৯৫৭ এবং ট্রেড মার্কস আইন ১৯৯৯ এর মাধ্যমে কার্যকর করা যায়। আদালত এ বিষয়টি জোর দিয়ে বলেছে যে, সেলিব্রিটিদের পরিচয় চিহ্নের অননুমোদিত ব্যবহার তাদের জীবন ও স্বাধীনতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে, এই আইনগত কাঠামো ব্যবহার করে তিনি তার অধিকার রক্ষা করতে সক্ষম হবেন।
অধিকন্তু, আদালত ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যে, এই মামলাটিকে তথ্যপ্রযুক্তি (ইন্টারমিডিয়ারি গাইডলাইনস অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া এথিক্স কোড) নিয়ম, ২০২১ অনুসারে একটি আইনি অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবিলম্বে অভিযোগিত কন্টেন্ট চিহ্নিত করে তা সরিয়ে ফেলতে হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এই নির্দেশনা ডিজিটাল মিডিয়ার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই রায়ের ফলে জে.আর. এনটিআরের পরিচয় চিহ্নের অননুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যবহার এখন আইনি বাধার মুখে। প্ল্যাটফর্মগুলোকে এখন থেকে তার নাম, ছবি বা কোনো উপাধি ব্যবহার করলে স্পষ্ট অনুমোদন নিতে হবে। যদি কোনো ব্যবহার অনুমোদনবিহীন পাওয়া যায়, তবে তা দ্রুত মুছে ফেলা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলকে আইনি পদক্ষেপের মুখে দাঁড়াতে হবে। এই ব্যবস্থা সেলিব্রিটিদের অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য স্বচ্ছ ও সঠিক তথ্য নিশ্চিত করবে।
সামগ্রিকভাবে, দিল্লি উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত ডিজিটাল যুগে সেলিব্রিটি অধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি কেবল জে.আর. এনটিআরের জন্য নয়, অন্যান্য শিল্পী ও পাবলিক ফিগারদের জন্যও একটি প্রমাণস্বরূপ যে, তাদের পরিচয় চিহ্নের অপব্যবহার আইনি পরিণতি বয়ে আনবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে এই রায়ের প্রয়োগ ও পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



