জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে প্রেস কার্ড ও গাড়ি স্টিকার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমে জটিলতা দেখা দিলে, সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। এ বিষয়ে আজ সকালবেলা এগ্রাগাঁর ইলেকশন কমিশন সদর দফতরে চিফ ইলেকশন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সমস্যার সমাধান না হলে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কভারেজে বাধা সৃষ্টির সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছে।
বৈঠকের পর রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (RFED) সভাপতি কাজি এমাদ উদ্দিন জেবেল উল্লেখ করেন, ইলেকশন কমিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় ছাড়াই নতুন অ্যাপ চালু করেছে। তিনি বলেন, এই অ্যাপ ব্যবহারিক নয় এবং বর্তমান সমস্যাগুলো ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।
জেবেল উল্লেখ করেন, ব্যবহারকারীরা একবারের পাসওয়ার্ড (OTP) পাওয়ার ক্ষেত্রে দেরি, ছবি ও স্বাক্ষরের আকারের অমিল, এবং ফাইল আপলোডে ত্রুটির সম্মুখীন হচ্ছেন। এছাড়া, সাংবাদিক নির্দেশিকায় দীর্ঘদিনের পরিবর্তনের দাবি থাকা সত্ত্বেও এখনো কোনো সংশোধন করা হয়নি, যদিও কমিশনের সঙ্গে বহুবার আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যদি রবিবারের মধ্যে এই সমস্যাগুলো সমাধান না হয়, তবে সাংবাদিক নেতারা একত্রিত হয়ে নির্বাচন কভারেজ সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য বৈঠক করবেন।
ঢাকা ইউনিয়ন অফ জার্নালিস্টস (DUJ) সভাপতি মো. শাহিদুল ইসলামও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নতুন সিস্টেমটি বাস্তবিক নয় এবং এত স্বল্প সময়ের মধ্যে সব সাংবাদিককে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন দিয়ে কার্ড ইস্যু করা অসম্ভব।
ইসলাম উল্লেখ করেন, ইলেকশন কমিশন সমস্যাগুলো স্বীকার করেছে এবং রবিবারের মধ্যে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হলে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশে প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি সাংবাদিকরা কভারেজে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেন, তবে নির্বাচনের তথ্যপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হবে এবং ভোটারদের সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হবে। একই সঙ্গে, ইলেকশন কমিশনের ওপর চাপ বাড়বে যাতে তারা দ্রুত প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর করে স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারে।
সর্বশেষে, উভয় পক্ষই রবিবারের শেষ সময়সীমা পর্যন্ত সমস্যার সমাধান না হলে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি সমাধান না হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে, তাই সময়মতো সমাধান প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



