বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) থাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকা চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত গণসংযোগে উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দলটি উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, “হাসিনার আমলে আমরা কাজ করতে পারিনি, পালানোর পর আমরা উন্নয়নের কাজ শুরু করেছি।”
মির্জা ফখরুলের মতে, পূর্বে গড়ে ১০০ টাকার আয় ছিল, এখন ২০০ টাকার আয়কে উন্নয়ন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তিনি যুক্তি দেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং কৃষি খাতে অগ্রগতি হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
এই মন্তব্যগুলো চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে করা হয়, যেখানে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার উপস্থিত ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। সমাবেশে উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা তার বক্তব্যে উৎসাহ প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুল ভবিষ্যৎ নির্বাচনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “আগামী ভোটে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে আমরা ভুল করব।” তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি আগামী সময়ে সরকার গঠন করার লক্ষ্য রাখবে এবং তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব করা হবে।
তবে তিনি তারেকের পুত্র খালেদা জিয়ার দেশে ফিরে আসতে বাধা দেওয়া নিয়ে মন্তব্য করেন, “তারেক জিয়াকে দেশে আসতে দেননি ১৮ বছর।” তিনি যোগ করেন, জিয়া প্রথমবার যখন দেশে আসেন, তখন জনগণ তার প্রতি সমর্থন দেখিয়েছিল।
বিএনপির পরিকল্পনা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল জানান, প্রথম দিনে স্টেজে উঠে তারেক রহমান একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা দেশের মায়েদের কল্যাণে কেন্দ্রীভূত হবে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে “ফ্যামিলি কার্ড” চালু করা হবে, যার মাধ্যমে ন্যূনতম মূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাবে। এছাড়া “কৃষি কার্ড”ের মাধ্যমে কৃষকদের সাশ্রয়ী মূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ করা হবে।
তারা কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেবে, যাতে যুবকদের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হয়। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, “তিনি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন।”
মির্জা ফখরুল ১৯৭১ সালের ঘটনার দিকে ফিরে গিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সহিংসতা ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান সেনাদের সঙ্গে সহযোগিতা করা কিছু লোকের নামও জানা আছে।
তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানি বাহিনীর এই অতীত অপরাধের জন্য প্রথমে ক্ষমা চাওয়া উচিত, তারপরই ভোটের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। “আগে ৭১ সালের জন্য মাফ চান তারপর ভোট চান,” তিনি জোর দিয়ে বলেন।
এইসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, বিএনপির এই উন্নয়নমুখী রণনীতি এবং সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ভোটের ফলাফল কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, কারণ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এখনও অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।



