পাকিস্তান ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি পৌঁছেছে। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে উড়ানের টিকিট ইতিমধ্যে বুক করা হয়েছে, যা পূর্বে বাংলাদেশকে সমর্থন করে বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার পর পরিবর্তন নির্দেশ করে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সূত্রে জানা যায়, দলটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শেষ করার পর সরাসরি কলম্বোতে রওনা হবে। এই পরিকল্পনা ইঙ্গিত দেয় যে পাকিস্তান টুর্নামেন্টে অংশ নেবে এবং পূর্বে উত্থাপিত বয়কটের ধারণা কার্যত বিলুপ্ত হয়েছে।
পূর্বে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি উল্লেখ করেন ছিলেন, বাংলাদেশকে সমর্থন করে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে আইসিসি সভায় বাংলাদেশীয় ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ ১৪-২ ভোটে প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এরপর নাকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিক সমর্থন জানিয়ে, অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুঁকি বিবেচনা করে বয়কট না করার পরামর্শ দেন। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, সামরিক কর্মকর্তারা, প্রাক্তন পিসিবি চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি এবং রমি রাজসহ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের পরামর্শে পাকিস্তান টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার দিকে ঝুঁকেছে।
বিশেষত, গ্রুপ পর্যায়ে ভারতীয় দলের বিপক্ষে ম্যাচের সম্ভাবনা এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। পাকিস্তান দল যদি প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সুপার ইটের স্থান নিশ্চিত করে, তবে ভারতীয় দলের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের শিডিউল অনুযায়ী, প্রথম দুটি ম্যাচ ৭ এবং ১০ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই ম্যাচের ফলাফল টুর্নামেন্টে দলের অগ্রগতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হাম নিউজের সিনিয়র সাংবাদিক মুজাম্মিল সোহরাওয়ার্দী জানান, সাধারণ জনগণের ধারণা অনুযায়ী পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তিনি উল্লেখ করেন, বয়কটের গুঞ্জন টিকিট বুকিংয়ের খবর প্রকাশের সঙ্গে মিলিয়ে আরেকটি দিক থেকে ম্লান হয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা আগামী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) অথবা সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র প্রকাশিত হয়নি, তবে টিকিট বুকিংয়ের তথ্যই স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছে যে পাকিস্তান টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথে অগ্রসর।
পাকিস্তান দল ও পিসিবি এই মুহূর্তে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও লজিস্টিক্সে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে উড়ানের ব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ায় খেলোয়াড় ও স্টাফদের জন্য ভ্রমণ পরিকল্পনা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশকে সমর্থন করে বয়কটের সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে পাকিস্তান এখন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে দলটি কীভাবে পারফর্ম করবে তা নির্ভর করবে শিডিউল অনুযায়ী প্রথম দুই ম্যাচের ফলাফলের ওপর।



