27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকিয়ার স্টারমার চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে শি জিনপিংয়ের...

কিয়ার স্টারমার চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে চীন সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই সাক্ষাৎ আট বছরের মধ্যে কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর, যা উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দেয়।

স্টারমার বেইজিংয়ে চারদিনের সফরের মধ্যে শি-র সঙ্গে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠক করেন এবং পরে একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন, যা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সুযোগগুলো অনুসন্ধান করা, পাশাপাশি কূটনৈতিক সংলাপকে পুনরুজ্জীবিত করা।

স্টারমারের লেবার পার্টি সরকার গৃহে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে তা এখনো পূর্ণতা পায়নি। ফলে, বেইজিংয়ের গুপ্তচরবৃত্তি উদ্বেগ ও মানবাধিকার প্রশ্নের পরেও, ব্রিটিশ সরকার চীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার দিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, কারণ চীন বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বৈঠকের শুরুর দিকে স্টারমার উল্লেখ করেন, চীন বিশ্ব মঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এবং যেখানে সম্ভব সেখানে আরও পরিশীলিত সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি, একই সঙ্গে মতবিরোধের ক্ষেত্রেও কার্যকর সংলাপ বজায় রাখতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, উভয় দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানো উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে।

শি জিনপিংও একই সুরে উত্তর দেন, চীন সরকার ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে অতীতের উত্থান-পতনের পর এখন দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, উভয় দেশের সম্পর্কের উন্নতি উভয়ের জনগণের কল্যাণে অবদান রাখবে।

স্টারমারের সফরের কিছু দিন আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্কার্নিও চীন সফর করে, যেখানে অটোয়া ও বেইজিংয়ের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরোধিতার মুখে পড়ে, তবে কানাডা ও চীন সরকারের জন্য তা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়।

ব্রিটিশ সরকারের পূর্ববর্তী রক্ষণশীল শাসনকালে চীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ খারাপ ছিল। লন্ডনের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং হংকংয়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতার ওপর চীন সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগের ভিত্তিতে চীনের বহু বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা হয়।

এই পদক্ষেপগুলো চীন সরকারের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সংযোগকে সীমিত করে, ফলে ব্রিটিশ সরকারকে নতুন কূটনৈতিক পথ অনুসন্ধান করতে বাধ্য করে। স্টারমার এই প্রেক্ষাপটে চীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেন।

স্টারমার সরকার গঠনের প্রায় আঠারো মাস আগে তিনি একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যে ব্রিটেনকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনরায় সক্রিয় করতে হবে এবং বহিরাগত সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বে ঘটমান নানা ঘটনা ব্রিটিশ জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই বহিরাগত নীতি পুনর্বিবেচনা করা আবশ্যক।

বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে উভয় পক্ষের উচ্চপর্যায়ের দলগুলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে নির্দিষ্ট প্রকল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া মানবাধিকার ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলার জন্য নিয়মিত সংলাপের ব্যবস্থা করা হবে।

এই বৈঠক ব্রিটিশ সরকার ও চীন সরকারের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্নির্মাণের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে সমন্বয় করার লক্ষ্য রাখে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments