শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান চলাকালীন চেয়ার দখল এবং লাঠি জড়ো করার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে দলীয় সংঘাত সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাতের মূল কারণ কীভাবে এড়ানো যেত, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা দরকার।
স্থানীয় প্রশাসন সকল প্রার্থীর অংশগ্রহণে একত্রিত হয়ে ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান আয়োজন করে। প্রতিটি দলের জন্য নির্দিষ্ট বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাতে সমাবেশের পরিবেশ শৃঙ্খলাপূর্ণ থাকে। তবে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে কিছু দল নির্ধারিত সময়ের আগে চেয়ার দখল করে রাখে, যা পরবর্তী বিশৃঙ্খলার সূচনা করে।
বৈধভাবে বরাদ্দকৃত আসনগুলোতে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃবৃন্দ সব চেয়ার দখল করে রাখে এবং বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্ধারিত আসনে বসতে বাধা দেয়। এই অবস্থায় প্রশাসন বারবার আহ্বান জানায়, তবে জামায়াত-এ-ইসলামি দলের সদস্যরা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে এবং পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়ে ওঠে।
চেয়ার দখল করার পাশাপাশি জামায়াত-এ-ইসলামি দলের কিছু সদস্য লাঠি জড়ো করে, যা সম্ভাব্য সহিংসতার ইঙ্গিত দেয়। লাঠি সংগ্রহের এই কাজটি উপস্থিতদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়।
বিএনপি দলের সদস্যরা নির্ধারিত আসনে বসতে না পারায় বিরক্তি প্রকাশ করে এবং তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। উভয় দলের মধ্যে কথোপকথন দ্রুত তীব্র হয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত শারীরিক সংঘাতে রূপ নেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দর্শক ও মিডিয়া কর্মীরা এই উত্তেজনা পর্যবেক্ষণ করে, তবে কোনো সুনির্দিষ্ট হিংসাত্মক ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।
মাহদী আমিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন এবং বলেন, “শেরপুরে চেয়ার দখল ও লাঠি জড়ো করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করে রাখল এবং কেন লাঠি জড়ো করল, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এছাড়া, প্রার্থীকে কেন সংঘাতের পথে ধাবিত করা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা উচিত।
মাহদী আমিন দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানান, যাতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সনাক্ত করা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, সকল পক্ষের সম্মিলিত অনুরোধ উপেক্ষা করে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া কোনো দলকে আইনি দায়িত্ব বহন করতে হবে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের নাগরিকদের প্রত্যাশা ছিল একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন। মাহদী আমিন এই প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া যেন বিতর্কমুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী পরিবেশে কোনো দলই সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবে না।
এই ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মাহদী আমিন জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসন বারবার আহ্বান জানিয়েও পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, যা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কীভাবে এই বিশৃঙ্খলা শুরু হলো, কে সেখানে উস্কানি দিয়েছে, এবং কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে পারেনি, এসব বিষয়ের উত্তর পাওয়া দরকার।
ভবিষ্যতে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা যায়। বর্তমান ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত তদন্তের ফলাফল এবং প্রয়োজনীয় শাসনমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটাতে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু চলাচল নিশ্চিত করবে।



