ইরানের ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত অবস্থায়, ইরান সরকারের পতনের লক্ষ্যে চূড়ান্ত যুদ্ধে নামার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। জেরুজালেম পোস্টের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অবস্থায় ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ডিসেম্বরের শেষের দিকে এবং জানুয়ারির শুরুর দিকে ইতিমধ্যে ইরানি জনগণ রাস্তায় নেমে সাহসিকতার নতুন মাত্রা প্রদর্শন করেছে, যা পূর্বের প্রতিবাদগুলোর তুলনায় অধিক দৃঢ়।
রেজা পাহলভি বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত ইরানিদের হাতে নির্ধারিত হওয়া উচিত। তবে তিনি ইরান সরকারের কাঠামো ভেঙে ফেলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সাহায্য চেয়েছেন। তার মতে, বিদেশি সহায়তা ছাড়া বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা কঠিন হবে, এবং তিনি এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বহিরাগত শক্তির অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলছেন।
ডিসেম্বর মাসে শুরু হওয়া প্রতিবাদগুলোতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো অন্তত ৩৩,০০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে। যদিও এই সংখ্যা সরকারী সূত্রে প্রকাশিত না হলেও, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও পর্যবেক্ষকরা বাস্তবিক মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এই বিশাল মানবিক ক্ষতি ইরান সরকারের কঠোর দমন নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্রতা প্রকাশ করে, যা দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে।
মার্কিন সরকারের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ করা হতে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশের পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি জানিয়েছেন। এই মন্তব্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করতে পারে।
ইরান সরকারও ট্রাম্পের হুমকির জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরানিরা দাবি করেছেন যে, কোনো বিদেশি আক্রমণ ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা হামলা চালানোর জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে। এই অবস্থান ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর দৃঢ়তা প্রকাশ করে, এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রিন্সের বিদেশি সাহায্যের আহ্বান এবং মার্কিন সরকারের সম্ভাব্য সামরিক হুমকি উভয়ই ইরানীয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিদ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রিন্সের দাবিকে সমর্থন করে, তবে ইরান সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কার্যক্রম ত্বরান্বিত হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা ইরানের নিরাপত্তা নীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে জটিল করে তুলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ইরান সরকারের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও জনমত গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিবাদকারীরা যদি আরও বৃহত্তর মাত্রায় রাস্তায় নেমে আসে, তবে সরকারের দমন নীতি ও আন্তর্জাতিক চাপের সমন্বয় ফলাফল নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে, ইরানীয় বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা বা বিভাজন ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে গঠন করবে।
সারসংক্ষেপে, রেজা পাহলভির চূড়ান্ত যুদ্ধের ঘোষণা, আন্তর্জাতিক সংস্থার মৃত্যুর সংখ্যা, মার্কিন সরকারের সামরিক ইঙ্গিত এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া একত্রে ইরানের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে কী ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ বা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তা ইরান ও অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। পরিস্থিতি এখনও দ্রুত পরিবর্তনশীল, এবং ভবিষ্যৎ বিকাশের ওপর নজর রাখা জরুরি।



