আশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজয়ের পর ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলকে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিযোগের মুখে দাঁড়াতে হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মধ্যে বিরতিতে কুইন্সল্যান্ডের পর্যটন শহর নুসায় কিছু খেলোয়াড়ের নিয়মিত মদ্যপানের খবর প্রকাশিত হয়।
ব্রিটিশ ও অস্ট্রেলীয় মিডিয়া জানায়, নুসা সফরের সময় দলের কয়েকজন সদস্য ধারাবাহিকভাবে মদ্যপান করছিল। এই তথ্যগুলো দলীয় শৃঙ্খলা ও প্রস্তুতির ওপর প্রশ্ন তুলেছে।
প্রাক্তন অলরাউন্ডার মঈন আলী এই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দলের মধ্যে মদ্যপানের জন্য স্পষ্ট নিয়ম ও সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন, না হলে ভবিষ্যতে খেলার ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে।
মঈন আলী আরও উল্লেখ করেন, যদি নিয়ম না থাকে তবে চার-পাঁচ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডের খেলার শৈলীতে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে। তিনি এ ধরনের পরিবর্তনকে দলের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন।
একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলে প্রচলিত ধারণার মতো কোনো মদ্যপান সংস্কৃতি নেই। তিনি যুক্তি দেন, মিডিয়ায় কিছু বিষয় অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
মঈন আলী স্বীকার করেন, আশেজ ট্যুরের সময় কিছুটা মদ্যপান শুরু হতে পারে, তবে তা সীমিত মাত্রায় এবং কোনো সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলোকে বড় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়।
তিনি আরও জানান, কিছু সিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে, তবে তার পেছনে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি ও মানসিক চাপের ভূমিকা থাকতে পারে। দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং ট্যুরের চাপে তারা অন্য উপায়ে চাপ কমানোর চেষ্টা করতে পারে।
মঈন আলী নিজেও আশেজ সফরে ছিলেন এবং পাঁচ সপ্তাহের প্রস্তুতি শেষে প্রথম ম্যাচের আগে ক্লান্তি অনুভব করা স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের শারীরিক ও মানসিক চাপের ফলে কিছু খেলোয়াড় অতিরিক্ত পানীয়ের দিকে ঝুঁকতে পারে।
তিনি যোগ করেন, দলের অভ্যন্তরে চাপ থাকা জরুরি, কারণ চাপই খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পরীক্ষা। যদিও কিছু কাজ সম্পূর্ণ সঠিক না-ও হতে পারে, তবে চাপের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
আশেজ পরাজয়ের পর ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) দলীয় সংস্কৃতি ও প্রস্তুতি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন খেলোয়াড়দের পরিকল্পনা, পারফরম্যান্স এবং আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বর্তমানে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছে। শ্রীলঙ্কা বিরোধী তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভের পর, তারা আগামীকাল টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে।
সিরিজের সমাপ্তির পর ৮ ফেব্রুয়ারি নেপালের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচনা হবে, যেখানে হ্যারি ব্রুকের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল অংশগ্রহণ করবে।



