ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির বর্তমান আমির, আল জাজিরার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, পার্টির শীর্ষ পদে কোনো নারী কখনো দায়িত্ব নিতে পারবে না। এই মন্তব্যটি দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে জামায়াত-এ-ইসলামি কোনো নারী প্রার্থী তালিকাভুক্ত করেনি। সাক্ষাৎকারটি আল জাজিরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি, পার্টির নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ডা. শফিকুরের মতে, নারীর নেতৃত্বে অযোগ্যতা ধর্মীয় সৃষ্টিগত পার্থক্যের ফল। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঈশ্বরের দ্বারা নির্ধারিত এই পার্থক্যকে অস্বীকার করা সম্ভব নয় এবং তাই নারীকে পার্টির প্রধান পদে নিয়োগ করা তার নীতিগত বিরোধের মধ্যে পড়বে। এই দৃষ্টিভঙ্গি পার্টির দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তিনি জোর দেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-এ-ইসলামি কোনো নারী প্রার্থী না দেওয়ার কারণ হিসেবে ডা. শফিকুর দলটির প্রস্তুতি পর্যায়ে থাকা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পার্টি বর্তমানে নারীদের জন্য স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজ করছে। ভবিষ্যতে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও সংগঠনমূলক কাজ চালিয়ে যাবে, তবে তা এখনো সম্পূর্ণ রূপে বাস্তবায়িত হয়নি।
সাক্ষাৎকারে জামায়াত-এ-ইসলামির অন্যান্য মূল বিষয়ও আলোচিত হয়। পার্টি ইসলামী শাসনের বাস্তবায়ন, নারী অধিকার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর তাদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয়ের ওপর ডা. শফিকুরের মন্তব্যে পার্টির ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ডা. শফিকুর জোর দিয়ে বলেন যে, পার্টি সবসময় আমিরের নির্দেশ অনুসরণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, আমিরের বক্তব্যই পার্টির কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে এবং সেই অনুযায়ী কার্যক্রম চালানো হবে। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি দুর্নীতি বিরোধিতা, স্বচ্ছতা, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার মতো মূল্যবোধকে প্রচার করে চলেছে।
যদি পার্টি শাসনক্ষমতা অর্জন করে, তবে ইসলামী আইন প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে ডা. শফিকুর প্রকাশ্যে জানান। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ইসলামী শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পার্টি দেশের বিদ্যমান আইন মেনে অংশগ্রহণ করবে এবং জনগণের ইচ্ছার বিরোধিতা করবে না।
ডা. শফিকুরের এই বিবৃতি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নারী নেতৃত্বের প্রশ্নে পার্টির কঠোর অবস্থান এবং ভবিষ্যতে নারীদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা উভয়ই নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে জামায়াত-এ-ইসলামির অবস্থানকে প্রভাবিত করবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



