বাংলাদেশের হেড কোচ ফিল সিমন্স বুধবার শের-ই-বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে দেশের ক্রিকেটের পূর্ণাঙ্গ পুনরারম্ভের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শীঘ্রই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দু’ধরনের ম্যাচই আবার মাঠে ফিরবে।
সিমন্স আগামী মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাতের দিকে স্বল্পমেয়াদী ছুটিতে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ছুটির আগে তিনি দলের প্রস্তুতি ও অবকাঠামো পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশে উপস্থিত ছিলেন।
কোচের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সব দিক থেকে ইতিবাচক সিগন্যাল দেখা যাচ্ছে। তিনি দেশের ক্রিকেটের পুনরায় উন্মোচনের জন্য আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
সিমন্সের বাংলাদেশে আগমন হয় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) মাঝামাঝি সময়ে, যেখানে তিনি টিমের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেন আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে।
তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের ফলে দেশটি টি২০ বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে না। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতীয় মাটিতে দলকে পাঠানো হয়নি, ফলে আইসিসি স্কটল্যান্ডকে পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
বুধবার সকালবেলা সিমন্স শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের কেন্দ্রীয় উইকেট পরিদর্শন করেন। মাঠের পিচের অবস্থা যাচাই করার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কিউরেটর টনি হেমিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একাডেমি গ্রাউন্ডে গিয়ে গ্রীনহাউস সুবিধা পর্যবেক্ষণ করেন। অবকাঠামো উন্নয়নের এই দিকটি কোচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে উঠে আসে।
সিমন্স নিশ্চিত করেছেন, তিনি দলকে পরবর্তী আন্তর্জাতিক দায়িত্বের আগে, অর্থাৎ মার্চে নির্ধারিত পাকিস্তান বিপক্ষে ঘরে ঘরে সিরিজের আগে আবার দেশে ফিরে আসবেন। এই সিরিজটি ভবিষ্যৎ ট্যুরস প্রোগ্রামের (এফটিপি) অংশ।
বাংলাদেশ মার্চ ১২, ১৪ ও ১৬ তারিখে পাকিস্তানের সঙ্গে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের আয়োজন করবে। এই সিরিজের মাধ্যমে দু’দেশের দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবার মুখোমুখি হবে।
ওডিআই সিরিজের পর টেস্ট ম্যাচগুলো মে মাসে নির্ধারিত হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড পূর্বে টুর্নামেন্টকে দুই ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিল, যা পাকিস্তান সুপার লিগের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে চাওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, দেশের জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হওয়ায় দেশীয় ক্রিকেটের সূচি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। নির্বাচন সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও লজিস্টিক বিষয়গুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টুর্নামেন্ট কমিটি ফেব্রুয়ারিতে দেশের প্রথম অন্ডার-২৩ বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) চালু করার পরিকল্পনা করেছিল, যা নির্বাচনের এক সপ্তাহ পর শুরু হওয়ার কথা ছিল।
অন্ডার-২৩ প্রতিযোগিতার পরপরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এপ্রিলের শুরুতে চার দিনের বিসিএল টুর্নামেন্টের আয়োজনের কথা জানিয়েছিল। তবে নির্বাচনের কারণে খেলোয়াড়দের ফ্রি সময়ে পরিবর্তন আসতে পারে, ফলে সূচি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এখনো ফ্রি সময়ে রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য কিছুটা স্বস্তি প্রদান করে। কোচ সিমন্সের আশাবাদ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের সমন্বয়ে শীঘ্রই ক্রিকেটের পূর্ণাঙ্গ পুনরারম্ভের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



