বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) নতুন প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হিসেবে প্রত্যাবাসনকে একমাত্র কার্যকর ও টেকসই পথ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সমস্যাটির শিকড় মিয়ানমারে এবং সমাধানও সেখান থেকে আসতে হবে, শিবিরে বেড়ে ওঠা হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কোনো জন্যই উজ্জ্বল নয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইউনূস রোহিঙ্গা শিবিরে দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানকে সমাধান হিসেবে দেখেন না, কারণ তা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা ছাড়া সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
বৈঠকে রোহিঙ্গা শিবিরের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে ভাসানচর দ্বীপে অবস্থানরত শরণার্থীদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। ইউনূস জানান, ভাসানচরের অনেক শরণার্থী মূল ভূখণ্ডে ফিরে গিয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমন্বিত নীতি প্রয়োজন।
ইউএনএইচসিআরের নতুন প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন উল্লেখ করেন, নিকট ভবিষ্যতে জাতিসংঘের প্রধান বারহাম সালিহ বাংলাদেশ সফর করতে আগ্রহী, এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। তার পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্রান্ডি ২০১৭ সাল থেকে একাধিকবার শিবির পরিদর্শন করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মনোযোগের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিক গুরুত্বের অভাবের কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত এক বছরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ গ্রহণ করে বিষয়টি সামনে এনেছে, তবে তা যথেষ্ট মনোযোগ পায়নি। জাতিসংঘের মহাসচিবের শিবির পরিদর্শন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে সংকটকে নতুন করে উজ্জ্বল করেছে।
বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। ইউনূস জানান, বাংলাদেশ একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি যোগ করেন, নির্বাচন পরিচালনায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করা হবে এবং বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হবে।
এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট যে, সরকার রোহিঙ্গা শিবিরের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা শিবিরের বর্তমান অবস্থা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন এবং দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করেছেন, যা ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



