১৯ বছর বয়সী বামহাতি পেসার লুসি হ্যামিলটন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের টেস্ট দলে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তিনি আসন্ন একক টেস্ট ম্যাচে ভারত দলের মুখোমুখি হবেন, যা অস্ট্রেলিয়ার ঘরে অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে নিকোলা ক্যারি ২০২২ সালের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে এসে ওডিআই দলে পুনরায় যুক্ত হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের ফরম্যাট জুড়ে ক্যাপ্টেন সোপি মোলিনিউক্সকে নিযুক্ত করা হয়েছে, যেহেতু অ্যালিসা হিলি অবসর নিয়েছেন। হিলি এই সিরিজের ওডিআই ও টেস্ট দুটোই শেষবারের মতো নেতৃত্ব দেবেন, আর মোলিনিউক্স তার ডেপুটি হিসেবে কাজ করবেন।
ভাইস-ক্যাপ্টেন পদে অশ্লি গার্ডনারকে নতুন করে তোলা হয়েছে, তহলিয়া ম্যাকগ্রাথের সঙ্গে তিনি দলকে সমর্থন করবেন। এই পরিবর্তনগুলো দলকে নতুন নেতৃত্বের কাঠামোতে সাজিয়ে তুলবে।
হ্যামিলটন সাম্প্রতিকভাবে উইমেন্স বিগ ব্যাটিং লিগে আটটি উইকেট নিয়ে আটটি ম্যাচে পারফরম্যান্স দেখিয়ে ইয়ং গান অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। তিনি ব্রিসবেন হিটের হয়ে খেলেছেন এবং গত বছর ইউ১৯ বিশ্বকাপের ক্যাপ্টেন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
নিকোলা ক্যারি ২০২৩ সালে জাতীয় চুক্তি প্রত্যাখ্যানের পরেও দেশীয় ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। তিনি ২০২৩-২৪ মৌসুমে প্লেয়ার অফ দ্য ইয়ার শিরোপা জিতেছেন, তাসমানিয়াকে প্রথম ৫০-ওভার শিরোপা অর্জনে সহায়তা করেছেন এবং ২০২৫ সালের উইমেন্স হান্ড্রেড ফাইনালে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
দল থেকে বাদ পড়েছেন লেগ-স্পিনার আলানা কিং, যিনি টি২০ই আন্তর্জাতিক দলে ছিলেন, এবং মেগান শুট, যিনি ওডিআই দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের অনুপস্থিতি নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ তৈরি করেছে।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড উল্লেখ করেছেন, সফি মোলিনিউক্সের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সফি একজন শক্তিশালী খেলোয়াড় এবং তার উপস্থিতি দলের জন্য গর্বের বিষয়।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স হেড ও ন্যাশনাল সিলেক্টর শন ফ্লেগলারও সফির নেতৃত্বের গুণাবলী নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সফি তার স্থিতিশীলতা, সংযম এবং দেশীয় লিগে প্রমাণিত নেতৃত্বের মাধ্যমে দলের ভবিষ্যৎ গড়তে সক্ষম।
অস্ট্রেলিয়া ও ভারতীর মধ্যে নির্ধারিত টেস্টের পর ওডিআই সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে হিলি শেষবারের মতো ক্যাপ্টেন হিসেবে মাঠে নামবেন। এই সিরিজটি হিলির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি চিহ্নিত করবে, আর মোলিনিউক্সের নেতৃত্বে দল নতুন দিকনির্দেশনা পাবে।
নতুন কল-আপ এবং নেতৃত্বের পরিবর্তন সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের লক্ষ্য স্পষ্ট: ঘরে ভারতকে পরাজিত করে সিরিজ জয় করা। হ্যামিলটন ও ক্যারির পারফরম্যান্স দলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, আর মোলিনিউক্সের ক্যাপ্টেনশিপে দলকে নতুন সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়া হবে।



