রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে আজ সকাল ৯ টা থেকে বিএনপি নেতা ও কর্মীরা একত্রিত হয়ে পার্টির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্বাচনী র্যালির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। র্যালি দুপুর ২ টায় শুরু হবে এবং উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ের আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হল পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উত্তরাঞ্চলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি জানানো।
সকাল ৯ টা থেকে ট্রাক ও বাসে রাজশাহী ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সমর্থকরা মাঠে পৌঁছাতে শুরু করেন। বেশিরভাগই পার্টির পতাকা, ব্যানার ও পোস্টার হাতে নিয়ে আসেন, আর কিছুজন ক্যাপ ও টি-শার্টে বিএনপি স্লোগান মুদ্রিত দেখানো যায়। কিছু সমর্থক ধানকুঁড়ি হাতে ধরে পার্টির নির্বাচনী প্রতীককে দৃশ্যমান করে তুলেছেন।
নেতা ও কর্মীরা ছোট ও বড় দলে মাঠে প্রবেশ করে একে অপরের সঙ্গে স্লোগান গাইতে শুরু করেন। “বিএনপি, জয় বাংলা!” শ্লোগানগুলো গুঞ্জনময় পরিবেশে শোনা যায়। অংশগ্রহণকারীরা মাঝে মাঝে ধানকুঁড়ি তুলে পার্টির প্রতীককে সম্মান জানিয়ে উল্লাস করেন।
র্যালির মূল বক্তা হিসেবে তারেক রহমান দুপুর ২ টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হবেন। অনুষ্ঠানটি রাজশাহী সিটি বিএনপি প্রেসিডেন্ট মামুনুর রশিদ মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। র্যালির সময়সূচি অনুযায়ী, তারেকের ভাষণ শেষে পার্টির অন্যান্য নেতারা সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করবেন।
বিএনপি মিডিয়া সেল সদস্য সায়রুল কবির খান জানান, তারেক ১১:০৫ টায় ঢাকার বাসস্থান থেকে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের সঙ্গে বিমান পথে রাজশাহীতে রওনা হয়েছেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মাদ্রাসা মাঠে পৌঁছানোর পর, তিনি শহরের শাহী মখদুম (র) মাজারে নামাজ আদায়ের পরিকল্পনা করেছেন।
শাহী মখদুম (র) মাজারে নামাজ শেষ করার পর, তারেক রহমান সরাসরি র্যালি স্থানীয় যানবাহন ব্যবহার করে রওনা হবেন। এই সময়ে মাঠে স্থাপিত বড় মনিটর ও সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে তারেকের বক্তব্য সকল উপস্থিতির কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছাবে।
মাঠের চারপাশে বিভিন্ন স্থানে বড় স্ক্রিন ও উচ্চমানের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বক্তার কথা ও পার্টির প্রচারমূলক ভিডিওগুলো দূর থেকে আসা দর্শকদের কাছে পরিষ্কারভাবে পৌঁছায়। এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা র্যালির প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করবে।
বিএনপি নেতা ও কর্মীরা উল্লেখ করেন, বিভিন্ন ইউনিট থেকে সমর্থকরা ক্রমাগত পৌঁছাচ্ছেন, ফলে ভিড় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে র্যালি শেষে পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট হবে।
বিএনপি কর্মী আওয়াদ হোসেন, রাজশাহী শহরের একজন কর্মী, বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শাসনে আমরা রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করতে পারিনি। আজ আমাদের জন্য আনন্দের দিন।” তিনি আরও যোগ করেন, “টেলিভিশনে মাত্র তারেকের ছবি দেখেছি, এবার সরাসরি তার উপস্থিতি অনুভব করব।”



