ফেব্রুয়ারি ৭ থেকে মার্চ ৮ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ও ভারতের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে গুজবের মাঝে ভারতীয় ব্যাটসম্যান অজিঙ্কয়া রাহানে স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন, দেশটি টুর্নামেন্ট থেকে সরে যাওয়ার সাহস দেখাবে না। রাহানের এই মন্তব্য ক্রিকবাজের সঙ্গে এক সাক্ষাতে প্রকাশ পায়, যেখানে তিনি পাকিস্তানের সিদ্ধান্তকে ‘গাটস’ না থাকা হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাহানের কথায় তিনি জোর দেন, পাকিস্তান যদি টুর্নামেন্ট থেকে সরে যায়, তবে তা দেশের ক্রীড়া নীতি ও আন্তর্জাতিক দায়িত্বের প্রতি অবহেলা হবে। তিনি আরও বলেন, টিমের প্রস্তুতি ও খেলোয়াড়দের মনের অবস্থা বিবেচনা করলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়।
ইন্ডিয়ান ক্রিকেট বিশ্লেষক হার্ষা ভোগলে একই ইভেন্টে রাহানের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাকিস্তানের এই ধরনের মন্তব্যকে ‘অপ্রয়োজনীয় শব্দ’ বলে সমালোচনা করেন। ভোগলে জানান, পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে অংশ নেবে এবং কোনো রকমের প্রত্যাহার তার পরিকল্পনার অংশ নয়।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ও পিসিবি সভাপতি মোহসিন নাকভি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শারিফের সঙ্গে আলোচনা শেষে জানান, পাকিস্তানের অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামীকাল অথবা পরের সোমবারের মধ্যে জানানো হবে। নাকভি উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তের জন্য সব প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সময়মতো স্পষ্টতা দেওয়া হবে।
নাকভি পূর্বে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কে ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ ব্যবহার করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, আইসিসি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে স্থানান্তর করেছে, যা বাংলাদেশের প্রতি অন্যায় আচরণ। নাকভি দাবি করেন, নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে অন্য দেশে ম্যাচ স্থানান্তরের অনুমতি না দেওয়া আইসিসির ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আইসিসি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল বাংলাদেশী দলের ম্যাচগুলোকে ভারতের বাইরে স্থানান্তর করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা, যা আইসিসি নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে স্কটল্যান্ডের দল টুর্নামেন্টের তালিকায় যুক্ত হয়।
এইসব ঘটনার পর টুর্নামেন্টের আয়োজকরা নিশ্চিত করেন যে, সব দলই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অংশগ্রহণ করবে এবং কোনো পরিবর্তন না ঘটলে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের স্টেডিয়ামগুলোতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, এবং ভক্তদের জন্য টিকিট বিক্রয় চলছে।
পাকিস্তানের অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায় টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একত্রে কাজ করছে। আগামী সপ্তাহে নাকভি যে সিদ্ধান্ত জানাবেন, তা টুর্নামেন্টের সামগ্রিক কাঠামো ও দলীয় প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলবে। টি২০ বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত সব দলই মাঠে উপস্থিত হবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।



