চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত পুলিশকে শো-কার্স নোটিশ জারি করেছে, কারণ পুলিশ একটি অপরাধে গ্রেফতার আদেশ চেয়েছিল যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গ্রেফতারকালে জেলে ছিল।
আসামি নূর হোসেন রবিন, উপনাম তুষার, প্রথমে সিটাকুন্ডা মডেল থানা-তে ১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে গ্রেফতার হন এবং ২১ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত জেলভুক্ত ছিলেন।
পাহারতলি থানার গুদামে অস্ত্র চুরি, দহন এবং ধ্বংসের অভিযোগে পুলিশ দাবি করে যে রবিন ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ঘটিত বিশাল উত্থানের সময় এই কাজগুলো সম্পন্ন করেন।
উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আদালতে আবেদন করে রবিনকে ঐ ঘটনার মামলায় গ্রেফতার আদেশের জন্য প্রস্তাব রাখে।
এই বিরোধের পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তার গতকাল বিকেলে পাহারতলি থানার সাব-ইনস্পেক্টর মো. আরিফুজ্জামান খানকে এই অসঙ্গতি ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেন এবং শো-কার্স নোটিশ প্রদান করেন।
রবিনের আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২১ আগস্ট ২০২৪ তারিখে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে ৩১ জানুয়ারি ২০২৫-এ একাধিক ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আবার গ্রেফতার হন এবং চট্টগ্রাম সেন্ট্রাল জেলে স্থানান্তরিত হন।
পুলিশের মতে রবিন একজন পেশাদার অপরাধী ও মাদকাসক্ত, এবং হালিশহর, পাহারতলি, আকবরশাহ ও সিটাকুন্ডা থানায় মোট ছয়টি মামলায় অভিযুক্ত, যার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র ধারণ, চুরি, ডাকাতি এবং মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।
রবিনের আইনজীবী মনি দাস জানান, তার ক্লায়েন্ট জানুয়ারি ২০২৫ থেকে আকবরশাহ ও পাহারতলি থানায় দায়ের দুইটি মামলায় জেলভুক্ত আছেন এবং এখনো মুক্তি পাননি।
আদালত শো-কার্স নোটিশের ভিত্তিতে তদন্তকারীকে লিখিত ব্যাখ্যা চায়, এবং পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। যদি প্রমাণে দেখা যায় যে জেলভুক্ত অবস্থায়ই তিনি অপরাধে যুক্ত হতে পারেননি, তবে গ্রেফতার আদেশ বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া ও প্রমাণের যথার্থতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একদিকে পুলিশের দাবি এবং অন্যদিকে জেল রেকর্ডের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
পরবর্তী আদালতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনের আওতায় যথাযথভাবে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।



