ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ – জামাতের আমির আজ ইইউ রাষ্ট্রদূরের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। দুজনেই ঢাকা‑করাচি সরাসরি ফ্লাইটের পুনরায় চালু হওয়ার পরের প্রথম দিনেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
ইইউ রাষ্ট্রদূত, যিনি গত সপ্তাহে বাংলাদেশে তার প্রথম সফর সম্পন্ন করে ফিরে এসেছেন, জামাতের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইইউ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে এবং সকল রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে আহ্বান জানিয়েছেন।
জামাতের আমিরও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, জামাতের লক্ষ্য দেশের স্বার্থ রক্ষা করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। এছাড়া, তিনি ইইউকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই ১৪ বছর পর ঢাকা‑করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ার খবর শেয়ার করেন। এ ফ্লাইটের মোট ব্যয় প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক ও পর্যটন সংযোগকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় পক্ষই এই নতুন রুটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখছেন।
ইইউ রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, সরাসরি ফ্লাইটের পুনরায় চালু হওয়া দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বিনিময় বাড়াবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
জামাতের আমিরও ফ্লাইটের অর্থনৈতিক প্রভাবের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই রুটের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে ইলিশ, চা ও পোশাক শিল্পের পণ্যগুলোকে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার বাজারে সহজে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এভাবে দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
বৈঠকের সময় উভয় পক্ষই দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। ইইউ রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও সীমানা নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন। জামাতের আমিরও এ বিষয়ে দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে ইইউকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত জামাতকে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে নির্বাচনের বৈধতা বাড়বে।
জামাতের আমির এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জামাত দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত এবং ইইউয়ের সহায়তা পেলে তা আরও কার্যকর হবে। তিনি অতিরিক্তভাবে ইইউকে মানবাধিকার ও নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দেন।
এই বৈঠকটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ইইউয়ের সঙ্গে এই ধরনের সরাসরি সংলাপ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
অধিকন্তু, সরাসরি ফ্লাইটের চালু হওয়া দেশের বাণিজ্যিক সংযোগকে ত্বরান্বিত করবে এবং পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় পক্ষই এই সুযোগকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়।
বৈঠকের পর ইইউ রাষ্ট্রদূত ঢাকা থেকে রওনা হয়ে পরের দিন করাচিতে পৌঁছান, যেখানে তিনি পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান। জামাতের আমিরও দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে প্রতিশ্রুতি জানান।
এই সাক্ষাৎকারের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ইইউ এবং জামাতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে উভয় পক্ষের প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়। এছাড়া, নির্বাচনের আগে সকল রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি জাতীয় সংলাপের আয়োজনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, জামাতের আমির এবং ইইউ রাষ্ট্রদূরের এই বৈঠক দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সংলাপের ধারাবাহিকতা দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



