সারাইল উপজেলা, শাহজাদাপুর ইউনিয়ন শাখার ৭১ জন সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি রুমিন ফারহানা নামের স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত থাকার অভিযোগে স্থগিত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতের দিকে উপজেলা বিএনপি দপ্তরের সম্পাদক এ বি এম সালাউদ্দিনের স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। কমিটি স্থগিতের মূল কারণ হিসেবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন না করা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির আগে, মঙ্গলবার একই উপজেলা বিএনপি শাখা শাহবাজপুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচজন অন্যনেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এই পদক্ষেপটি রুমিন ফারহানার নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া নেতাদের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়। বহিষ্কারের মাধ্যমে শাখার অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং পার্টির প্রার্থীর প্রচারণা নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সূচনা থেকে শাহজাদাপুর ইউনিয়নের বেশিরভাগ নেতা রুমিন ফারহানা, যিনি পূর্বে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার স্বতন্ত্র প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এই অংশগ্রহণের ফলে শাখার সদস্যদের মধ্যে পার্টির নীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শাখার বেশিরভাগ সদস্যই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য নিশ্চিত করে যে, রুমিন ফারহানার ক্যাম্পেইন কার্যক্রমে শাখার নেতারা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, ঘরে ঘরে সফর এবং প্রচারমূলক সভা আয়োজনের মতো কাজগুলোতে অংশ নিয়েছেন। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে পার্টি শৃঙ্খলার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয় এবং শাখার অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং সারাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম মিডিয়াকে জানিয়ে বলেন, শাহজাদাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ সদস্য পার্টির প্রার্থীর জন্য প্রত্যাশিত সমর্থন প্রদান করেননি এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের ফলে কমিটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শাখার সদস্যদের যদি আবার পার্টির শৃঙ্খলাকে মেনে চলে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে যুক্ত কার্যক্রম বন্ধ করে, তবে কমিটির কাজ পুনরায় চালু করা হবে।
আনিছুল ইসলাম আরও বলেন, শাখার সদস্যদের পুনরায় শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং পার্টির নীতি অনুসরণ করা হলে, ভবিষ্যতে শাখার কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করা হবে। তিনি শাখার নেতাদেরকে সতর্ক করেন যে, পার্টির নীতি ও শৃঙ্খলা পুনরায় গ্রহণ না করলে আরও কঠোর শাস্তি আরোপ করা হতে পারে।
এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক প্রভাবও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, এবং বিএনপি শাখার অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা পার্টির সমগ্র কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শাখার কমিটি স্থগিতের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং ভোটারদের কাছে পার্টির একতাবদ্ধতা প্রদর্শনের প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
পরবর্তী ধাপে, শাখার সদস্যদের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং রুমিন ফারহানার ক্যাম্পেইন থেকে দূরে সরে আসা নিশ্চিত করা হবে। যদি শাখার নেতারা পার্টির শর্ত মেনে চলে, তবে কমিটির কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে এবং শাখার কার্যক্রম স্বাভাবিক পথে ফিরে আসবে। এই প্রক্রিয়া নির্বাচনী প্রচারণার সময় পার্টির অভ্যন্তরীণ একতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।



