ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকি আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করে। ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্যের পর, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, স্বর্ণ ও তেলের দাম উর্ধ্বমুখী হয়, আর শেয়ারবাজারে ব্যাপক পতন দেখা যায়।
নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দাম ঐ দিন নতুন শীর্ষে পৌঁছায়; এক আউন্সে ৫,৫০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে সর্বোচ্চ ৫,৫৮৮.৭১ ডলারে লেনদেন হয়। এই রেকর্ডমূল্য পূর্বের সপ্তাহের ধারাবাহিক বাড়তি গতি থেকে উদ্ভূত, যা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।
রূপার দামও একই দিনে রেকর্ড স্তরে পৌঁছায়, এক আউন্সে প্রায় ৬৭ ডলারের কাছাকাছি। বিশ্লেষকরা এটিকে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ডলারের দুর্বলতার সমন্বয় ফলাফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, যা মূল্যবান ধাতুর চাহিদা ত্বরান্বিত করে।
বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি হ্রাসের জন্য নিরাপদ সম্পদে রূপান্তরিত হওয়ায়, স্বর্ণ ও রূপার দামে তীব্র উত্থান দেখা যায়। একই সঙ্গে, ডলারের তুলনামূলক অবনতি মূল্যবান ধাতুর দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা বাজারের সামগ্রিক অস্থিরতাকে বাড়িয়ে তোলে।
ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনা তেলের বাজারেও প্রভাব ফেলেছে; ব্রেন্ট তেলের দাম এক গ্যালনে প্রায় ২.৫ শতাংশ বাড়ে, যা সপ্তাহের শুরুর তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বিশ্লেষকরা জানান, ইরানের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা তেলের সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে তুলেছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ইরানের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার আহ্বান জানিয়ে, পারমাণবিক প্রোগ্রাম সংক্রান্ত তাত্ক্ষণিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি সতর্ক করেন, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয় তবে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ আরও ভয়ানক হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলবে।
এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে বিপরীত প্রবণতা দেখা যায়; টোকিও, হংকং, সাংহাই, সিডনি ও সিউল সহ প্রধান সূচকগুলো গড়ে ১.২ থেকে ১.৮ শতাংশ নেমে আসে। বিশেষ করে টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের নিসে ১.৪ শতাংশ এবং হংকং হ্যাংসেং সূচক ১.৬ শতাংশ হ্রাস পায়, যা বিনিয়োগকারীর আত্মবিশ্বাসের হ্রাস নির্দেশ করে।
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা শেয়ারবাজারে প্রায় ৮ শতাংশের বড় পতন রেকর্ড হয়, যা পূর্বের দিনের ৪ শতাংশের পতনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। স্থানীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তেল ও ধাতুর দামের উত্থান এবং বৈশ্বিক ঝুঁকি বৃদ্ধির ফলে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ও ভোক্তা চাহিদা দু’ই প্রভাবিত হয়েছে।
ডলারের মান অন্যান্য প্রধান মুদ্রার তুলনায় চাপের মুখে থাকে; ইউরো, ইয়েন ও পাউন্ডের তুলনায় ডলার সূচক প্রায় ০.৩ শতাংশ হ্রাস পায়। এই দুর্বলতা আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে ডলারের প্রভাব কমিয়ে দেয়, যা তেল ও ধাতুর দামের উত্থানে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
অলস্প্রিং গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টসের বিশ্লেষক ম্যাথিয়াস শাইবার ও রুশাভ আমিনের মতে, বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ এখন মার্কিন সরকার কর্তৃক ট্রাম্পের ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান মনোনয়নের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ মে মাসে শেষ হওয়ায়, নতুন নামের ঘোষণাই বাজারের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হতে পারে।
বিশ্লেষকরা আশা করেন, নতুন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান নরম মুদ্রানীতির পক্ষে ঝুঁকবেন, যা সুদের হার কমানোর চাপ বাড়িয়ে তুলতে পারে। মার্কিন সরকার ও ফেডারেল রিজার্ভের মধ্যে সুদের হার নীতি নিয়ে চলমান আলোচনার ফলে বছরের বাকি সময়ে নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাড়বে।
বাজার



