বিনোদন জগতে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল পরিচালক অ্যাটলির পরবর্তী বড় প্রকল্প, যার শিরোনাম AA22xA6। ছবিতে তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় নায়ক অলু আরজন এবং বলিউডের শীর্ষ তারকা দীপিকা পাদুকোন একসাথে কাজ করবেন। জওয়ানের আন্তর্জাতিক সাফল্যের পর এই প্রকল্পকে প্যান-ইন্ডিয়ান এবং গ্লোবাল দর্শকদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।
অ্যাটলি, যাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম প্রভাবশালী ও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পরিচালক হিসেবে গণ্য করা হয়, এই নতুন ছবির জন্য ইতিমধ্যে বিশাল প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছেন। তার পূর্বের কাজগুলোতে তিনি ভক্তদের হৃদয় জয় করার পাশাপাশি বক্স অফিসে চমকপ্রদ ফলাফল অর্জন করেছেন।
একটি সাম্প্রতিক ইভেন্টে অ্যাটলি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ পান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিন নতুন কিছু আবিষ্কার হচ্ছে এবং পুরো টিম রাত জাগিয়ে কাজ করছে। এই কাজের গতি ও তীব্রতা তাকে বলার দিকে নিয়ে যায় যে, শেষ পর্যন্ত দর্শকরা সর্বোচ্চ আনন্দের অভিজ্ঞতা পাবেন।
অ্যাটলির মন্তব্যের মূল বিষয় হল, “প্রতিদিন আমরা কিছু না কিছু নতুন শিখি, সবাই ছবির খবর জানতে চায়, আর আমরা রাতভর কাজ করছি। বড় কিছু তৈরি করছি, শেষ হলে সবাই সর্বোচ্চ উপভোগ করবে”। এই বাক্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, ছবির নির্মাণে অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল পরিমাণ সৃজনশীল কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
শিল্পের অভ্যন্তরে এই খবরের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক। বহু বিশ্লেষক ও চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা জানান, AA22xA6 একটি বিশাল প্যান-ইন্ডিয়ান স্পেকট্যাকল হতে চলেছে, যা দেশের সীমানা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিধ্বনি তুলবে।
অলু আরজনের প্যান-ইন্ডিয়ান স্টারডমের কথা উল্লেখ না করা যায় না। তিনি তামিল, তেলুগু, হিন্দি ও অন্যান্য ভাষার দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন, এবং তার উপস্থিতি ছবির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।
দীপিকা পাদুকোনের অংশগ্রহণ ছবির আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রী হিসেবে তার আন্তর্জাতিক পরিচিতি, ছবির গ্লোবাল আকর্ষণকে শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রোডাকশন টিম ছবিটিকে এমন একটি মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যেখানে গল্প, ভিজ্যুয়াল এফেক্ট ও প্রোডাকশন মান আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। বিশেষ করে ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ও সিটিএস (কম্পিউটার-জেনারেটেড ইমেজ) ক্ষেত্রে বড় বাজেটের ব্যবহার প্রত্যাশিত।
অ্যাটলির কাজের ধরন হল আবেগময় গভীরতা ও উচ্চ-গতির অ্যাকশনকে একত্রে মেশানো। তিনি সবসময়ই ভারতীয় হৃদয়স্পন্দনকে আন্তর্জাতিক সিনেমাটিক স্বাদে রূপান্তর করার চেষ্টা করেন, যা এই প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য হবে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, AA22xA6 ভারতীয় বাণিজ্যিক সিনেমার গ্লোবাল উপস্থিতি আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্ভব করবে। এই ছবির সাফল্য যদি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়, তবে এটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের নতুন মাইলফলক হতে পারে।
বর্তমানে ছবির শুটিং চলমান এবং টিম রাত জাগিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বড় স্কেল সেট, আন্তর্জাতিক কাস্ট ও ক্রু, এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
প্রকল্পের নির্দিষ্ট মুক্তি তারিখ এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে নির্মাণ পর্যায়ে অগ্রগতি দ্রুতগতিতে চলছে বলে জানা গেছে। ভক্তরা এখনো অপেক্ষা করছেন, কখন এই বিশাল স্পেকট্যাকল বড় পর্দায় আসবে।
অ্যাটলি শেষ কথায় জানান, দর্শকরা যখন ছবিটি দেখবে, তখন তারা সর্বোচ্চ আনন্দের অভিজ্ঞতা পাবে। এই প্রতিশ্রুতি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং প্রত্যাশা আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে।



