২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি, ফরাসি ইলেকট্রনিক সঙ্গীতশিল্পী জন‑মিকেল জারে চ্যালেঞ্জার শাটল দুর্ঘটনার ৪০তম বার্ষিকীতে রন ম্যাকনেয়ারের স্মরণে একটি বিশেষ পোস্ট প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রন ম্যাকনেয়ার, যিনি ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্পেস শাটল চ্যালেঞ্জার STS‑41B মিশনে সঙ্গীত যন্ত্র নিয়ে প্রথমবারের মতো মহাকাশে বাজিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একটি স্যাক্সোফোন সলো পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
রন ম্যাকনেয়ার ছিলেন দ্বিতীয় আফ্রিকান‑আমেরিকান মহাকাশচারী, এবং একই সঙ্গে একজন জ্যাজ স্যাক্সোফোনিস্ট। ১৯৮৪ সালে তিনি চ্যালেঞ্জার মিশনে একটি বাঁকা সোপ্রানো স্যাক্সোফোন নিয়ে গিয়ে মহাকাশে সঙ্গীতের নতুন ইতিহাস রচনা করেন। এই সাফল্য তাকে মহাকাশে যন্ত্র বাজানো প্রথম ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৮৬ সালের রেনডে‑ভু অ্যালবামের শেষ ট্র্যাকের জন্য জারে একটি বিশেষ স্যাক্সোফোন পারফরম্যান্সের পরিকল্পনা করেন। ম্যাকনেয়ারকে শাটল থেকে সরাসরি লাইভ স্যাক্সোফোন সলো বাজাতে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে সম্প্রচারিত হতো। তবে ২৮ জানুয়ারি, শাটল উৎক্ষেপণের ৭৩ সেকেন্ড পর চ্যালেঞ্জার বিস্ফোরিত হয়ে সব সাতজন ক্রু সদস্যের প্রাণ হারায়। এই ঘটনার ফলে পরিকল্পিত পারফরম্যান্স কখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
বিপর্যয় ঘটার পর জারে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন, “আমি রন ম্যাকনেয়ারকে বিশেষভাবে স্মরণ করছি, যিনি একজন মহাকাশচারী, সঙ্গীতশিল্পী এবং পথিকৃৎ ছিলেন।” তিনি আরও বলেন, এই ক্ষতির শোকের মধ্যে থাকা পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে, রনের স্মৃতিকে সম্মানিত করার জন্য অ্যালবামের শেষ ট্র্যাকের শিরোনাম “লাস্ট রেনডে‑ভু (রনের পিস) – চ্যালেঞ্জার” রাখা হয়েছে।
চ্যালেঞ্জার দুর্ঘটনার কয়েক মাস পর, ৫ এপ্রিল ১৯৮৬-এ জারে হিউস্টন শহরে “রেনডে‑ভু হিউস্টন: এ সিটি ইন কনসার্ট” শিরোনামের একটি বিশাল ওপেন‑এয়ার কনসার্ট আয়োজন করেন। এই অনুষ্ঠানটি হিউস্টনের ১৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী এবং নাসার ২৫তম জন্মদিনের উদযাপন হিসেবে পরিকল্পিত ছিল। কনসার্টে আধুনিক লেজার শো ব্যবহার করে শহরের উঁচু ভবনগুলোকে আলো ও রঙের ক্যানভাসে রূপান্তরিত করা হয়।
কনসার্টে উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা প্রায় ১.৫ মিলিয়ন, যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে সর্ববৃহৎ কনসার্ট দর্শকসংখ্যা হিসেবে স্বীকৃত হয়। পারফরম্যান্সের রেকর্ডিং পরে লাইভ অ্যালবাম হিসেবে প্রকাশিত হয়, যা জারের ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
রন ম্যাকনেয়ার দক্ষিণ ক্যারোলিনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবে বর্ণবৈষম্যের মুখোমুখি হন। তবে তার দৃঢ়সংকল্প তাকে বিজ্ঞান ও সঙ্গীতের দুটো ক্ষেত্রেই শীর্ষে পৌঁছাতে সাহায্য করে। তিনি প্রথম আফ্রিকান‑আমেরিকান হিসেবে স্পেস শাটল মিশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি, মহাকাশে সঙ্গীত বাজিয়ে মানবজাতির সৃজনশীল সম্ভাবনা প্রসারিত করেন।
চ্যালেঞ্জার শাটল দুর্ঘটনা নাসা ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্প্রদায়ের জন্য এক বিশাল ধাক্কা ছিল, এবং একই সঙ্গে সঙ্গীতের ইতিহাসে একটি অম্লান ক্ষতি। জারের পরিকল্পিত স্যাক্সোফোন পারফরম্যান্স যদি বাস্তবায়িত হতো, তবে তা সঙ্গীত ও মহাকাশের সংযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করত।
আজকের দিনে, জারে এবং অন্যান্য শিল্পী রনের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রকল্পে তার নাম ব্যবহার করছেন। রনের সৃষ্টিশীলতা ও সাহসিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।
ম্যাকনেয়ারের জীবন ও কর্মের মাধ্যমে দেখা যায়, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি কীভাবে বিজ্ঞান ও শিল্পের সীমানা অতিক্রম করতে পারে। তার গল্প আজও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সঙ্গীত সংস্থার কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্বপ্নের প্রতি দৃঢ়তা জাগ্রত হয়।
চ্যালেঞ্জার ট্র্যাজেডি এবং রন ম্যাকনেয়ারের অমলিন স্মৃতি আজও মহাকাশ গবেষণা ও সঙ্গীতের সংযোগে নতুন আলো জ্বালিয়ে রাখে। জারের এই স্মরণীয় উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সৃজনশীল সহযোগিতা ও উদ্ভাবনী প্রকল্পের পথ প্রশস্ত করবে।



