চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্যায় শেষ হয়ে গিয়েছে এবং লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি ও বার্সেলোনা সরাসরি লাস্ট-১৬ রাউন্ডে স্থান পেয়েছে। এদিকে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন ও রিয়াল মাদ্রিদকে প্লে‑অফ রাউন্ডে নামতে হবে।
লিভারপুল অ্যানফিল্ডে ক্বারাবাগকে ৬-০ গলে বড় জয় অর্জন করে। ম্যাচের প্রথম গোল এলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার করেন, এরপর ফ্লোরিয়ান উইর্টজ দ্বিতীয় গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধে ডোমিনিক সজোবস্লাইয়ের ফ্রি-কিক থেকে মোহামেড স্যালাহ বক্সের প্রান্ত থেকে বোল্ড শট মারেন, হুগো একিটিকের দৌড়ে চারটি গোলের তালিকায় যোগ হয়। ম্যাক অ্যালিস্টার নিজেরই দ্বিতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন, শেষের দিকে ফেডেরিকো চিসা প্রতিস্থাপনে এক গোল যোগ করে স্কোর ৬-০ করে। ম্যাচের পর ম্যাক অ্যালিস্টার ইউইএফএ.কম-এ বললেন, “আশা করি আমরা ফাইনালে পৌঁছাতে পারব, আমাদের সক্ষমতা আমরা জানি।”
ম্যানচেস্টার সিটি ইথিয়াদে গালাটাসারায়কে ২-০ পরাজিত করে আট নম্বর স্থান নিশ্চিত করে। এরলিং হাল্যান্ডের শট এবং রায়ান চেরকির দ্রুত আক্রমণমূলক গতি দুটোই গলকে পৌঁছায়। এই জয় দলকে সরাসরি লাস্ট-১৬-এ স্থান দেয় এবং পরের রাউন্ডে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত করে।
বার্সেলোনা ক্যাম্প নুতে ফি.সি. কোপেনহেগেনের বিরুদ্ধে ৪-১ জয় অর্জন করে পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম স্থান অর্জন করে। ম্যাচের প্রথম ভাগে ১৭ বছর বয়সী ভিক্টর দাদাসনের চতুর্থ মিনিটের গোল দিয়ে দলটি শক পায়, তবে রবার্ট লেভান্ডোস্কি অর্ধেকের পর সমতা রক্ষা করেন। লামিন ইয়ামাল একটি বড় ডিফ্লেকশনসহ শট মারেন, যা বার্সেলোনাকে এগিয়ে রাখে। রাফিনহা ৬৯তম মিনিটে পেনাল্টি মারেন এবং শেষের দিকে মার্কাস রাশফোর্ডের ফ্রি-কিক স্কোরে যোগ হয়, ফলে দলটি লাস্ট-১৬ রাউন্ডে নিশ্চিত হয়।
প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন নিউক্যাসলের সঙ্গে বাড়িতে ১-১ ড্র করে। ফলস্বরূপ দলটি প্লে‑অফ রাউন্ডে নামবে, যা গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গৌরব অর্জনের পথে তাদের অতিক্রম করেছিল। রিয়াল মাদ্রিদও সরাসরি লাস্ট-১৬-এ না পৌঁছে। তারা বেনফিকায় ৪-২ পরাজিত হয়, যেখানে বেনফিকার গোলকিপার আনাটোলি ত্রুবিনের ৯৮তম মিনিটের গোল শেষ মুহূর্তে প্লে‑অফের শেষ স্থান নিশ্চিত করে। রিয়াল মাদ্রিদের এই পরাজয় দলকে অতিরিক্ত রাউন্ডে নামতে বাধ্য করে।
টটেনহ্যামও লাস্ট-১৬ রাউন্ডে স্থান পায়, যদিও তাদের শেষ ম্যাচের বিশদ এখানে উল্লেখ নেই। এদিকে আর্সেনাল ও বায়ার্ন মিউনিখ ইতিমধ্যে টেবিলে শীর্ষে অবস্থান করে এবং সরাসরি লাস্ট-১৬-এ নিশ্চিত হয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্যায়ের সমাপ্তি সঙ্গে সঙ্গে দলগুলো পরবর্তী রাউন্ডের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। লিভারপুলের পরবর্তী প্রতিপক্ষ এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে তারা অ্যানফিল্ডে শক্তিশালী পারফরম্যান্স বজায় রাখার লক্ষ্য রাখবে। ম্যানচেস্টার সিটি ইথিয়াদে তাদের জয় ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইউরোপীয় শিরোপা পুনরায় জয়ের আকাঙ্ক্ষা করবে। বার্সেলোনা ক্যাম্প নুতে গৃহযুদ্ধে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে, তাই তারা ইউরোপীয় শিরোপা শিরোপা জয়ের পথে আত্মবিশ্বাসী। প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন ও রিয়াল মাদ্রিদ প্লে‑অফ রাউন্ডে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, যেখানে একাধিক ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স নির্ধারণ করবে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই রাউন্ডে দলগুলোর পারফরম্যান্স এবং ফলাফল ইউরোপীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



