হাবিগঞ্জ জেলার জাতীয় নাগরিক দলের ১৩জন নেতা, যার মধ্যে সিনিয়র যৌথ সদস্য সচিব পালাশ মাহমুদও অন্তর্ভুক্ত, গত রাতের অর্ধরাতে অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দল ত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর পুনর্বাসন, জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের বাদ দেওয়া এবং সংগঠনগত ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
সম্মেলনটি হাবিগঞ্জ শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় দলের একটি অস্থায়ী অফিসে অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত নেতারা জানান, বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় ফ্যাসিবাদী উপাদান ও তাদের সমর্থকরা পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আর জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় সদস্যদের ধারাবাহিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
নেতারা দাবি করেন, জাতীয় নাগরিক দল কেন্দ্রীয়ভাবে মধ্যমার্জিত রাজনীতি অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে গঠিত হলেও, প্রতিষ্ঠার দুই মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দুইটি রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হয়ে মূল নীতির থেকে সরে গেছে। এই পরিবর্তনকে তারা দলের আদর্শের বিকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পদত্যাগের পেছনে আরেকটি মূল অভিযোগ হল বিভিন্ন স্তরে পার্টির নেতাদের মধ্যে দুর্নীতির উপস্থিতি। বিশেষ করে উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আর্থিক অস্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে তারা দলের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে গেছেন।
নেতারা আরও জানান, নির্বাচনের জন্য প্রস্তাবিত প্রার্থীদের নামকরণ প্রক্রিয়ায় অসন্তোষের মাত্রা বাড়ছে। জুলাই আন্দোলনের বহু কর্মী প্রস্তাবিত প্রার্থীদের প্রচারে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, যা দলের ভোটাভুটি কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
গ্রাসরুটের কর্মীদের বিশেষভাবে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে একটি বিশ্বস্ত গোষ্ঠী গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে, এ কথাও তারা উল্লেখ করেন। এ ধরনের কৌশলকে তারা দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের ক্ষতি হিসেবে দেখছেন।
হাবিগঞ্জ জেলা কমিটির কার্যকরী সংগঠনমূলক কাজের অভাবও নেতাদের তীব্র সমালোচনার বিষয়। তারা বলেন, কমিটি পর্যায়ে পরিকল্পনা, সমাবেশ ও সদস্যসংগ্রহের মতো মৌলিক কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি, ফলে দলের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
পদত্যাগকারী নেতাদের তালিকায় রয়েছে সিনিয়র যৌথ সদস্য সচিব পালাশ মাহমুদ, জেলা যৌথ সমন্বয়ক মোঃ নুরুল হক টিপু, অ্যাডভোকেট মোঃ আবদুল ওয়াহিদ মনির, যৌথ সদস্য সচিব সিরাজুল হক সজিব, শেখ রুবেল আহমেদ, সালমা হাসান, সঞ্জয় দাস, এবং সদস্য মোঃ হারুন মিয়া, মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মোঃ জাসিম উদ্দিন, এএইচএম শফিউল আলম খান, মোঃ জাহিদ মিয়া, ও সফাইল আহমেদ।
পালাশ মাহমুদ জানান, সকল ১৩জনের পদত্যাগপত্র ইতিমধ্যে জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
প্রশ্ন করা হলে, তারা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেননি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এই পদত্যাগের ফলে জাতীয় নাগরিক দলের জেলাভিত্তিক শক্তি ও সংগঠনগত কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবে এবং হাবিগঞ্জে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



