23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাব্যাংকগুলোকে ডিফল্ট ঋণগ্রহীতাদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুমতি চাওয়া হয়েছে

ব্যাংকগুলোকে ডিফল্ট ঋণগ্রহীতাদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুমতি চাওয়া হয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অনুসারে, দেশের শীর্ষ ব্যাংকিং সংস্থাগুলো ডিফল্ট ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে বিদেশি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুমতি চেয়েছে। এই প্রস্তাবনা ব্যাংকিং সেক্টরের স্ব-নিয়ন্ত্রণ শক্তি বাড়িয়ে নন‑পারফরমিং লোন (NPL) হ্রাসের লক্ষ্যে উপস্থাপিত হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (ABB) ডিফল্ট ঋণগ্রহীতাদের নাম ও ছবি প্রকাশের পাশাপাশি তাদেরকে ব্যবসায়িক সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বাধা দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এই পদক্ষেপগুলোকে ঋণগ্রহীতাদের শাস্তি কঠোর করার একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবনাগুলো নভেম্বর ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত নিয়ন্ত্রক সভার পর ABB কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা দাবি করে যে, বর্তমান প্রক্রিয়ায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন, যা সময়সাপেক্ষ এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ধীর করে।

ABB ব্যাংকগুলোকে সরাসরি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা প্রদান করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এভাবে ঋণগ্রহীতাদের উপর আর্থিক শাস্তি কার্যকর করা সহজ হবে বলে তারা যুক্তি দিয়েছে।

প্রস্তাবিত সংস্কার প্যাকেজে আইনি, নিয়ন্ত্রক এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার লক্ষ্য NPL হ্রাস এবং শ্রেণীবদ্ধ সম্পদের দ্রুত পুনরুদ্ধার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঋণ পুনরুদ্ধারের সময়সীমা কমিয়ে আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের শেষে মোট বিতরণকৃত ঋণ ছিল ১৮.০৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা ডিফল্টে পরিণত হয়েছে, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ গঠন করে। এই অনুপাত ২০০০ সাল থেকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।

এক বছর আগে একই সময়ে ডিফল্ট ঋণ ছিল মোট ঋণের ১৬.৯৩ শতাংশ, যা দেখায় যে ডিফল্টের হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়েছে। এই দ্রুত বৃদ্ধি ব্যাংকিং খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ABB ডিফল্ট ঋণগ্রহীতাদের জন্য সীমিত এবং সময়সীমা নির্ধারিত রিলিফের প্রস্তাবও দিয়েছে, যেখানে রোগ, মৃত্যু বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সত্যিকারের কষ্টে থাকা ঋণগ্রহীতাদের কিছু আর্থিক স্বস্তি প্রদান করা হবে। এই নীতি আন্তর্জাতিক সেরা চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পদ পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে, ব্যাংকগুলোকে ব্যাংক-নিলামকৃত সম্পদের উপর কর ও শুল্কমুক্তি, ক্রেতাদের জন্য আয়কর প্রণোদনা এবং নিলামকৃত সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য আদালতের অনুমোদন বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা সম্পদের দ্রুত বিক্রয় ও নগদীকরণে সহায়তা করবে।

অধিকন্তু, জমি রেজিস্ট্রি অফিসের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে বন্ধকী সম্পদের হস্তান্তর প্রক্রিয়া দ্রুততর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রেজিস্ট্রি দপ্তরের সক্রিয় সহযোগিতা সম্পদের হস্তান্তরে সময়সীমা কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মনি লোন কোর্ট আইন সংশোধনের ক্ষেত্রেও ABB সরলীকরণ প্রস্তাব করেছে; আদালতের পুনর্বিবেচনা সীমিত করা, মামলার সময়সূচি দ্রুত করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো আইনি প্রক্রিয়ার গতি বাড়াবে।

প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে ডিফল্ট ঋণগ্রহীতাদের উপর শাস্তি কঠোর হবে এবং ব্যাংকিং সেক্টরের ঝুঁকি হ্রাস পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তদুপরি, ঋণ পুনরুদ্ধার দ্রুত হওয়ায় আর্থিক বাজারে আস্থা বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবনাগুলোর উপর চূড়ান্ত মতামত প্রকাশ করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে। সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোকে নতুন নিয়মাবলী অনুসরণ করে ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments