ব্রাজিলের ফুটবল সংস্থা ফিফাকে জানিয়েছে যে তারা ২০২৯ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। রিও ডি জেনেইরোর হোটেলে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফ্যান্টিনোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। দেশের দুইবারের পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের সফল আয়োজনের পর এবার নারী বিশ্বকাপের পরবর্তী সংস্করণে স্বাগতিক হওয়ার প্রস্তুতি চলতে থাকায় ক্লাব বিশ্বকাপের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে।
ব্রাজিল পূর্বে ১৯৫০ ও ২০১৪ সালে পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। উভয়বারই দেশটি বিশাল স্টেডিয়াম, উন্নত অবকাঠামো এবং ভক্তদের উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে বিশ্বকাপের মানদণ্ড নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে। এই অভিজ্ঞতা দেশের ফুটবল সংস্থাকে ভবিষ্যৎ বড় ইভেন্টের জন্য আত্মবিশ্বাসী করেছে।
আগামী বছর জুন-জুলাই মাসে ব্রাজিলে নারী ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই টুর্নামেন্টের জন্য দেশটির আটটি শহরে স্টেডিয়াম ও প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলার কাজ চলছে। ফিফা সভাপতি ইনফ্যান্টিনো এই প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করতে নিজেই ব্রাজিলে গিয়েছিলেন এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বৈঠকের সময় ক্লাব বিশ্বকাপের সম্ভাবনা নিয়ে দু’পক্ষের কথোপকথনও চালু হয়।
ব্রাজিলের ফুটবল সংস্থার প্রধান সামির শৌদ পূর্বে প্রকাশ করেছিলেন যে ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজক হতে চায়। এই বছর তিনি রিওতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সেই ইচ্ছা পুনরায় নিশ্চিত করে ফিফাকে লিখিত প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। শৌদের মতে, দেশের অবকাঠামো, ভক্তদের উত্সাহ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ক্লাব বিশ্বকাপের সফল আয়োজনের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো বিডিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়নি; ফিফা সরাসরি হোস্ট দেশ বেছে নিয়েছিল। তবে ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের হোস্ট নির্ধারণের পদ্ধতি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফিফা এখনো কোন দেশকে স্বাগতিক হিসেবে নির্বাচন করবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ব্রাজিলের প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
ক্লাব বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্যতা অর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে ব্রাজিলের ফ্ল্যামেঙ্গো রয়েছে। ফ্ল্যামেঙ্গো গত বছর কোপা লিবের্তাদোরেস জয় করে ক্লাব বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। এই সাফল্য দেশের ক্লাব ফুটবলের শক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক মানকে তুলে ধরেছে। ফ্ল্যামেঙ্গোর উপস্থিতি ব্রাজিলের হোস্টিং প্রস্তাবকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ব্রাজিলের ফুটবল সংস্থা এখন ফিফার সঙ্গে সমন্বয় করে ২০২৯ ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও পরিকল্পনা জমা দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটি ইতিমধ্যে নারী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করেছে। এই অভিজ্ঞতা ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করবে।
ফিফা এখনও হোস্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত পদ্ধতি প্রকাশ না করলেও, ব্রাজিলের প্রস্তাবটি তার পূর্বের সফল আয়োজকত্বের রেকর্ডের ভিত্তিতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদি ব্রাজিলকে স্বাগতিক দেশ হিসেবে নির্বাচন করা হয়, তবে দেশের ফুটবল সংস্কৃতি, ভক্তদের উচ্ছ্বাস এবং অবকাঠামো ক্লাব বিশ্বকাপকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা আন্তর্জাতিক ফুটবল জগতের নজরে থাকবে।



