23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকচীন সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচনকারী চীনা নাগরিককে মার্কিন সরকার আশ্রয় প্রদান করেছে

চীন সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচনকারী চীনা নাগরিককে মার্কিন সরকার আশ্রয় প্রদান করেছে

একজন চীনা নাগরিক, যিনি শিনজিয়াং অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভিডিও রেকর্ড করে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন, মার্কিন সরকারের আশ্রয় অনুমোদন পেয়েছেন। ২০২০ সালে গুয়ান হেং গোপনে শিনজিয়াংয়ের আটক কেন্দ্রগুলোতে ছবি তুলেছিলেন, যেখানে মানবাধিকার সংস্থা অনুযায়ী এক মিলিয়নেরও বেশি উইগুর মুসলিমকে জোরপূর্বক আটক করা হয়েছে। গুয়ান, ৩৮ বছর বয়সী, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেন, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় একটি বৃহৎ নির্বাসন অভিযান চলাকালে আগস্টে গ্রেফতার হন।

মার্কিন সরকার গুয়ানের নির্বাসন পরিকল্পনা বাতিল করে, যা মূলত তাকে উগান্ডায় পাঠানোর কথা ছিল, এবং ডিসেম্বর মাসে তার পরিস্থিতি জনসাধারণের উদ্বেগের মুখে এসে পরিবর্তিত হয়। গুয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে প্রশ্ন করা হয়, যেখানে তিনি স্পষ্ট করেন যে তার ভিডিও রেকর্ডিংয়ের উদ্দেশ্য নিজস্ব আশ্রয় দাবির ভিত্তি তৈরি করা নয়, বরং উইগুরদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা। তিনি বলেন, “আমি যেসব উইগুরদের নিপীড়ন করা হচ্ছে তা দেখে দুঃখিত”।

চীনের উত্তরাধিকারী শিনজিয়াং ভ্রমণের পর গুয়ান হংকং, ইকুয়েডর, বাহামাস এবং শেষ পর্যন্ত ফ্লোরিডা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে গিয়ে ইউটিউবে অধিকাংশ ফুটেজ প্রকাশ করেন। ভিডিওগুলোতে তিনি শিনজিয়াংয়ের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে যা “কনসেনট্রেশন ক্যাম্প” বলে বর্ণনা করেন, সেসব স্থানের ভিতরে বন্দিদের জীবনের কঠোর শর্ত দেখিয়েছেন। এই রেকর্ডিংগুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজরে আসে এবং চীন সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগকে তীব্র করে।

মার্কিন সরকার, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশ চীন সরকারকে উইগুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং সম্ভবত গণহত্যা করার অভিযোগ তুলেছে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের একটি মানবাধিকার কমিটি জানায় যে চীন সরকার শিনজিয়াংয়ে “বিপক্ষ-চরমপন্থা বিরোধী কেন্দ্র” হিসেবে এক মিলিয়ন পর্যন্ত মানুষকে আটক করেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মিডিয়ার জন্য প্রায় অপ্রাপ্য।

চীন সরকার এই সব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং আটক কেন্দ্রগুলোকে “পুনর্বাসন শিবির” বলে দাবি করে, যা সন্ত্রাসবাদ ও ইসলামিক চরমপন্থা দমন করার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। তবে উইগুর শরণার্থী ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, এই শিবিরগুলোতে বন্দিদের মৌলিক মানবিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়, এবং অনেকেই নিখোঁজ বা ভয়ানক পরিস্থিতিতে বসবাস করতে বাধ্য হয়।

গুয়ানের আশ্রয় অনুমোদন মার্কিন সরকারের মানবাধিকার নীতি ও শিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক চাপের একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের পর, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালত গুয়ানের “ভয়ানক এবং যুক্তিযুক্ত ভয়”কে স্বীকার করেছে, যা তাকে চীন সরকারের পুনরায় গ্রেফতার ও নিপীড়নের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।

গুয়ানের কেসের মাধ্যমে শিনজিয়াংয়ের মানবাধিকার অবস্থা আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে এসেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা এই বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন, এবং বিভিন্ন দেশের সরকার শিনজিয়াংয়ে চলমান নিপীড়নের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

এই ঘটনাটি চীন সরকারের আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখোমুখি হওয়া ক্রমবর্ধমান সমালোচনার একটি উদাহরণ, যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সমাধান করা হচ্ছে। গুয়ানের ভিডিও ও তার আশ্রয় প্রক্রিয়া উইগুর শরণার্থীদের কণ্ঠস্বরকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, এবং ভবিষ্যতে শিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতি নিয়ে আরও কূটনৈতিক আলোচনার সূচনা করতে পারে।

গুয়ান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আটক অবস্থায় আছেন, তবে তার আশ্রয় অনুমোদন তার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, এই সিদ্ধান্ত চীন সরকারের মানবাধিকার নীতির বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং শিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতি সমাধানের জন্য বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরদার করেছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments