মার্কিন ভিত্তিক TIME ম্যাগাজিনের সর্বশেষ সংখ্যায় গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের স্পষ্ট ফ্রন্ট রানার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণটি ১৮ মাস আগে ছাত্র নেতৃত্বাধীন জনপ্রিয় উত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর পুনরায় ঘোষিত নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তারেকের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারের অংশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
TIME-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তারেক রহমান নিজেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বংশধর এবং দেশের তরুণ বিপ্লবীদের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সেতু হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি দাবি করেন, পুরোনো রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও নতুন প্রজন্মের চাহিদা একত্রে সমন্বয় করা তার মূল লক্ষ্য। এই অবস্থানকে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন।
ম্যাগাজিনটি উল্লেখ করেছে যে, দেশের প্রকৃত বিরোধী নেতা হিসেবে তারেকের অবস্থান সত্ত্বেও, তার বক্তৃতা গত দশক ধরে স্থানীয় মিডিয়ায় নিষিদ্ধ ছিল, যা তখনকার স্বৈরশাসক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নীতির ফলাফল। এই নিষেধাজ্ঞা তারেকের রাজনৈতিক কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ করলেও, তার জনপ্রিয়তা তবুও বাড়তে থাকে।
সাক্ষাৎকারটি তারেকের পারিবারিক বাড়ির বাগানে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে বুগানভিলিয়া ও গাঁদা ফুলের ছোঁয়া ছিল। এই বাগানটি তারেকের প্রথম সাক্ষাৎকারের স্থান, যা তিনি ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে এসে দেন। বাগানের পরিবেশকে তিনি “উজ্জ্বল” বলে বর্ণনা করেছেন।
“The thing is that I’m not very good at talking anyway . . . but if you ask me to do something, I try my best,” তিনি এই ইংরেজি উক্তিতে নিজের কথা বলছেন। এই বাক্যটি তারেকের স্বাভাবিক স্বভাব ও কাজের প্রতি তার দায়িত্ববোধকে প্রকাশ করে।
TIME উল্লেখ করেছে যে, তারেকের সমর্থকরা তাকে “হতাশা ভোগ করা মুক্তিদাতা” হিসেবে দেখছেন, যিনি তার শত্রু দেশকে রক্ষা করতে ফিরে এসেছেন। তিনি নিজে বলেন, “It’s not because I’m the son of my father and mother (rather) my party supporters are the reason why I’m here today,” যা তার রাজনৈতিক সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে পার্টি সমর্থনকে তুলে ধরেছে।
তারেক ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসার পর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শত শত হাজার ভক্তের স্বাগত পেয়েছেন। ভক্তরা রাতভর অপেক্ষা করে তার আগমনকে উল্লাসের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছেন। এই বিশাল সমাবেশ তার রাজনৈতিক পুনরুত্থানের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
কিন্তু তারেকের ফিরে আসার মাত্র পাঁচ দিন পর, তার মা, বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, দীর্ঘ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু সংবাদে দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে সমবেদনা জানানো হয় এবং আরও বড় সংখ্যক মানুষ রাজধানীর রাস্তায় সমবেত হন। এই ঘটনা রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
TIME-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তারেকের স্পষ্ট ফ্রন্ট রানার অবস্থান আগামী নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তার জনপ্রিয়তা, সমর্থকদের উত্সাহ এবং বিরোধী দলের মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার পরেও তার উপস্থিতি রাজনৈতিক গতিবিধিকে পুনর্গঠন করতে পারে। নির্বাচনের আগে এই গতিবিধি কীভাবে বিকশিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মূল প্রশ্ন রয়ে গেছে।



