অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল তার নতুন অধিনায়ক হিসেবে ২৮ বছর বয়সী বামহাতি স্পিনার সোফি মলিনিউকে ঘোষণা করেছে। অ্যালিসা হিলি অবসরের পর অধিনায়ক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন তাহলিয়া ম্যাকগ্রা ও অ্যাশ গার্ডনার, তবে শেষ পর্যন্ত মলিনিউকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলকে নেতৃত্ব দেবেন, যা ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে শুরু হবে।
মলিনিউকে অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়ার আগে, অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচিং স্টাফ এবং নির্বাচকরা দুইজন সহ-অধিনায়কের প্রস্তাবও রেখেছিলেন। তাহলিয়া ম্যাকগ্রা সহ-অধিনায়ক হিসেবে তার বর্তমান অবস্থান বজায় রাখবেন, আর গার্ডনারকে দ্বিতীয় সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ম্যাকগ্রা অতীতে নিয়মিত অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে ১৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তবে স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে তাকে বেছে নেওয়া হয়নি।
সোফি মলিনিউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তুলনামূলকভাবে নতুন মুখ। তিনি এখন পর্যন্ত তিনটি টেস্ট, সতেরো ওয়ানডে এবং আটত্রিশটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন। ব্যাটিংয়ে তিনি বড় অবদান রাখতে পারেননি, তবে বোলিং রেকর্ডে তিনি ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তার ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করেছে ধারাবাহিক হাঁটুর আঘাত, যার ফলে তিনি নিয়মিত সব ফরম্যাটে খেলতে পারেননি।
নির্বাচক শন ফ্লেগলার স্পষ্ট করে বলেছেন যে মলিনিউয়ের হাঁটুর সমস্যার কারণে তাকে মাঝে মাঝে বিশ্রাম দিতে হবে। এই কারণে দুইজন সহ-অধিনায়কের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া যায় এবং দলের পারফরম্যান্সে কোনো বাধা না আসে। মলিনিউয়ের শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, তার নেতৃত্বের গুণাবলীকে উচ্চ মূল্যায়ন করা হয়েছে।
মলিনিউয়ের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা মূলত ঘরোয়া ক্রিকেটে গড়ে উঠেছে। ২০২২ সাল থেকে তিনি ভিক্টোরিয়ার ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার তত্ত্বাবধানে দলটি ২০২৪ সালে প্রথমবার উইমেন’স বিগ ব্যাশ শিরোপা জিতেছে। এছাড়া, মেলবোর্ন রেনেগেডসের ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক স্তরে অধিনায়কত্বের জন্য প্রস্তুত করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
নতুন অধিনায়কত্বের সূচনা হবে ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে, যেখানে মলিনিউ প্রথমবার দলকে নেতৃত্ব দেবেন। মার্চ মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফরে তিনি টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় ফরম্যাটে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই সিরিজগুলো শেষ হওয়ার পর অ্যালিসা হিলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেবেন, যা মলিনিউয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের শেষের সূচক।
মলিনিউ অধিনায়কত্ব নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, “অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হতে পারা সত্যিকারের সম্মান এবং আমি গর্বিত, বিশেষ করে অ্যালিসার মতো কিংবদন্তির অনুসারী হতে পেরে।” তিনি দলের শক্তি ও তরুণ প্রতিভার কথা উল্লেখ করে যোগ করেছেন, “আমাদের দলটি দারুণ শক্তিশালী, যেখানে সহজাত নেতা আছে অনেক, তরুণ প্রতিভা উন্মোচিত হচ্ছে। আমি মুখিয়ে আছি একসঙ্গে কাজ করে নিজেদের বিকশিত করার জন্য।”
অ্যালিসা হিলি অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে ছিল। মলিনিউয়ের অধিনায়কত্বের ঘোষণার মাধ্যমে দলটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছে এবং তার নেতৃত্বে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হিলি শেষ সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে বিদায় নেবেন, যা মলিনিউয়ের জন্য একটি মাইলফলক এবং অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।



