23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাপামপে লিমিটেড স্মার্টফোন ঋণ সেবা বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুমোদন পায়

পামপে লিমিটেড স্মার্টফোন ঋণ সেবা বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুমোদন পায়

নাইজেরিয়ার বৃহত্তম ডিজিটাল ব্যাংক পামপে লিমিটেড, কম আয়ের গ্রাহকদের জন্য স্মার্টফোন ক্রয়ের ঋণ সেবা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদনটি ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শুরু হওয়া পামপের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, সীমিত আর্থিক সম্পদসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরাসরি নগদ না দিয়ে, গ্রাহকের পছন্দের ফোন সরবরাহকারী থেকে ডিভাইস ক্রয় করা হবে।

পামপে লিমিটেড ২০১৯ সালে নাইজেরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এশিয়া ও আফ্রিকায় ডিজিটাল ঋণ মডেল চালু করেছে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালে মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সেবা শুরু করে, পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুমোদনের আবেদন জানায়। অনুমোদনের শর্তে প্রতিষ্ঠানকে এক বছরে প্রায় দশ হাজার স্মার্টফোনের জন্য ঋণ প্রদান করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদনপত্রে উল্লেখ করেছে যে, স্মার্টফোনের বিস্তৃত ব্যবহার আর্থিক সেবার পৌঁছানো বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই, পামপের প্রস্তাবিত মডেলকে পরীক্ষামূলকভাবে অনুমোদন করে, সীমিত আয়ের জনগণকে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন সরবরাহের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে, সেবা যেকোনো নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত, তবে মূল লক্ষ্য হল যাঁদের কাছে ফোনের অভাব রয়েছে।

ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া সরলীকৃত। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি গ্যারান্টির জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। এরপর তিনটি ব্র্যান্ডের (টেকনো, ইনফিনিক্স, আইটেল) মধ্যে পছন্দের মডেল নির্বাচন করা যায়। পেমেন্টের প্রথম ধাপে ফোনের মোট মূল্যের ১৫ শতাংশ নগদে প্রদান করতে হবে, বাকি টাকা ৯ মাসের মধ্যে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

প্রতিটি মাসে ২ শতাংশ স্থির সুদ ধার্য হবে, যা ঋণের মূলধনের উপর প্রয়োগ করা হবে। পামপে লিমিটেডের অংশীদারিত্বে থাকা সাড়ে তিন হাজার মোবাইল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ফোন ক্রয় করলে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে। গ্রাহক যদি কিস্তি সময়মতো পরিশোধ না করেন, প্রথমে ফোনে ছোট বার্তা পাঠানো হবে, পরবর্তীতে বিশেষ নোটিফিকেশন এবং শেষ পর্যন্ত ডিভাইসটি ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, স্মার্টফোনের প্রবেশাধিকার বাড়িয়ে মোবাইল ব্যাংকিং, এমএফএস এবং সামাজিক মিডিয়া অ্যাপের ব্যবহার সহজ হবে, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মূল চালিকাশক্তি। এই সেবা বিশেষ করে গ্রামীণ ও নগর দরিদ্র এলাকায় ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পামপের এই উদ্যোগের ফলে দেশের মোবাইল ফোন বাজারে নতুন চাহিদা সৃষ্টি হবে। সরাসরি ফোন ক্রয়ের মাধ্যমে গ্রাহকের ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি কমে, আর বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোও বিক্রয় বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, ঋণ প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহে চাপ বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন করবে।

ভবিষ্যতে পামপে লিমিটেডের এই মডেলকে অন্যান্য ডিজিটাল পণ্য, যেমন ট্যাবলেট বা ল্যাপটপে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, ডিফল্ট রেট বৃদ্ধি পেলে ডিভাইস নিষ্ক্রিয়করণ প্রক্রিয়া গ্রাহকের সন্তুষ্টি ও সেবার ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট মূল্যায়ন ও গ্যারান্টি ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ জরুরি।

সারসংক্ষেপে, পামপে লিমিটেডের স্মার্টফোন ঋণ সেবা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেয়ে বাজারে প্রবেশ করেছে, যা কম আয়ের জনগণের জন্য ডিজিটাল ডিভাইসের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করবে। সেবা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রেতা নেটওয়ার্কের বিস্তার, কিস্তি শর্তের স্বচ্ছতা এবং সুদের হার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা বাড়বে। তবে, ডিফল্ট ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহক সেবার গুণমান বজায় রাখা দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments