মার্কিন সরকার ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজনের চারপাশে বয়কটের দাবি তীব্রতা পাচ্ছে; একই সময়ে মিনিয়াপোলিসে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুই প্রতিবাদকারী নিহত হয়। এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ওপর দখল করার হুমকি পুনরায় প্রকাশের পর ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সম্ভাব্য বয়কটের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো উচ্চপদস্থ ফুটবল কর্মকর্তা বা সরকারী নেতার কাছ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
মিনিয়াপোলিসে ঘটিত গুলিবর্ষণে দুই প্রতিবাদকারী প্রাণ হারিয়েছে, যা মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের ফলে ঘটেছে। ঘটনাটির পর স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এবং এটি ট্রাম্পের নীতি সমালোচকদের মধ্যে বয়কটের দাবিকে ত্বরান্বিত করেছে।
বয়কটের ডাক মূলত ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি ও অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে শোনা যাচ্ছে। এই গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের আয়োজনকে নিন্দা করে, এবং যদি ট্রাম্প আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন কোনো বিতর্ক উত্থাপন করেন, তবে বয়কটের আওয়াজ আরও বাড়তে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর থেকেই গ্রিনল্যান্ডের ওপর তার জোরালো অবস্থান গুঞ্জন তৈরি করেছে। তার এই অবস্থান ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনকে হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউরোপীয় ফুটবল নেতারা, বিশেষ করে নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও ফ্রান্সে কিছু ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকরা বয়কটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মত প্রকাশ করেছেন। নেদারল্যান্ডসে ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বয়কটের ডাক শোনা যায়, যদিও তা এখনও সীমিত সংখ্যক ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ।
জার্মানির সেন্ট পাওলি ক্লাবের সভাপতি ও জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওকে গটলিশ স্থানীয় পত্রিকায় বিশ্বকাপ বয়কটের গুরুত্ব নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “সময় এসেছে বয়কটের বিষয়টি গম্ভীরভাবে বিবেচনা করার।” একই বিষয় নিয়ে তিনি দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও পুনরায় জোর দেন।
অন্যদিকে, জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি বেয়ার্ন্ড নয়েনডর্ফ বয়কটকে বড় বিতর্ক হিসেবে না গণ্য করে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “ফেডারেশনের ভেতরে আমাদের বেশিরভাগই এই বিষয়কে তুচ্ছ মনে করি।” তার এই বক্তব্য বয়কটের দাবিকে সীমিত রাখার ইঙ্গিত দেয়।
মার্কিন সরকার ও ট্রাম্পের নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন মতামত গড়ে উঠলেও, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারী বা ফুটবল সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছ থেকে বয়কটের বাস্তবায়ন সম্পর্কে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে বয়কটের সম্ভাবনা এখনও অনুমান পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো একত্রে এই ইভেন্টের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং তারা বয়কটের সম্ভাব্য প্রভাবকে ন্যূনতম রাখতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের ওপর হুমকি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঘটনার ফলে এই প্রচেষ্টা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি ট্রাম্পের নীতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করে, তবে বয়কটের সমর্থন বাড়তে পারে এবং বিশ্বকাপের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে বয়কটের দাবিকে সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায়।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও বয়কটের দাবির মধ্যে দ্বন্দ্বের ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায় ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়েছে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই দ্বন্দ্ব সমাধান হবে এবং বয়কটের বাস্তবায়ন হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



