ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ১১৫ রান করে ১২১ ball‑এ শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন‑আপে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। পাভান রাথনায়েকের এই পারফরম্যান্সের পর তিনি T20 আন্তর্জাতিক দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। একই সময়ে নুয়ান থুসারা, দুশাম হেমন্থ ও কামিন্দু মেন্ডিসকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বামহাতি স্পিন অলরাউন্ডার দুনিথ ভেলালাগে এই দলে তার স্থান বজায় রেখেছেন। স্পিন বিভাগে বিশেষজ্ঞ হিসেবে মাহিশ থিকশানা ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা যুক্ত হয়েছেন, যারা টার্নওভার ও মিডল ওভার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। পার্ট‑টাইমার হিসেবে চারিথ আসালাঙ্কা ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা দলের ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে প্রস্তুত।
গতি বিভাগে প্রমোদ মাদুশান ও ইশান মালিঙ্কা প্রধান দায়িত্বে আছেন। তাদের পাশে দুশমন্থ চামিরা ও মাথিশা পাথিরানা রয়েছে, যারা দ্রুত গতি ও বোলিং বৈচিত্র্য যোগ করে দলের আক্রমণাত্মক সম্ভাবনা বাড়াবে। নুয়ান থুসারা, যদিও পূর্বে স্কোয়াডের পরিচিত মুখ, ফর্মের অবনতি কারণে এইবার বাদ পড়েছেন।
ব্যাটিং ইউনিটে রাথনায়েকের পাশাপাশি চেনা মুখরাই নামের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান অন্তর্ভুক্ত। কুশল পেরেরা আবারো দলে ফিরে এসেছেন এবং বর্তমানে T20 দলে নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রেখেছেন। এই পরিবর্তনগুলো শ্রীলঙ্কার টিমকে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকেই ভারসাম্যপূর্ণ করতে লক্ষ্য রাখে।
শ্রীলঙ্কা এখনও ICC T20 বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড প্রকাশ করেনি। তবে জানুয়ারি শেষের দিকে ইংল্যান্ডের সঙ্গে তিনটি T20 ম্যাচ নির্ধারিত হয়েছে, যেগুলো ৩০ জানুয়ারি, ১ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত হবে। এই সিরিজের ফলাফল বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।
বিশ্বকাপের আয়োজন ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত। দুই দেশের সমন্বিত হোস্টিংয়ে টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও ভেন্যু বণ্টন উভয় দলের জন্যই গৌরবের সুযোগ এনে দেবে। শ্রীলঙ্কা এই সময়ে নিজের হোম গ্রাউন্ডে শক্তি প্রদর্শন করতে চায়।
দল গঠনের ক্ষেত্রে ক্যাপ্টেন দাসুন শানাকা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সঙ্গে পাথুম নিসাঙ্কা, কামাল মেন্ডিস, কুশল মেন্ডিস, কুশল পেরেরা, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, চারিথ আসালাঙ্কা, জানিথ লিয়ানাগে, পাভান রাথনায়েক, দুনিথ ভেলালাগে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মাহিশ থিকশানা, দুশমন্থ চামিরা, প্রমোদ মাদুশান, মাথিশা পাথিরানা ও ইশান মালিঙ্গা রয়েছে। এই তালিকায় অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও তরুণ প্রতিভা উভয়ের সমন্বয় দেখা যায়।
দল গঠনের মূল উদ্দেশ্য হল ব্যাটিং গভীরতা ও স্পিনের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো, পাশাপাশি দ্রুত গতি ও অলরাউন্ডারদের ব্যবহার করে ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি করা। বিশেষ করে স্পিন ইউনিটে থিকশানা ও হাসারাঙ্গার সংযোজন টার্নওভার বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাভান রাথনায়েকের অন্তর্ভুক্তি ব্যাটিং লাইনে নতুন শক্তি যোগ করবে। তার ১১৫ রানের পারফরম্যান্স দেখায় যে তিনি মাঝারি ও শেষ ওভারে দ্রুত রান সংগ্রহে সক্ষম। স্কোয়াডের পরিকল্পনায় তাকে মাঝারি ও শেষ ওভারের দায়িত্বে রাখা হবে।
দুনিথ ভেলালাগের বামহাতি স্পিন ও অলরাউন্ডার ক্ষমতা টিমের ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকেই সমতা বজায় রাখবে। তিনি পিচের ধরণ অনুযায়ী বোলিং পরিবর্তন করতে পারবে, যা টিমের কৌশলগত বিকল্প বাড়াবে।
প্রমোদ মাদুশান ও ইশান মালিঙ্কা গতি বিভাগে মূল দায়িত্বে থাকবেন। তাদের গতি ও লাইন-লেংথের বৈচিত্র্য শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণকে আরও অনিশ্চিত করবে। দুশমন্থ চামিরা ও মাথিশা পাথিরানা দ্রুত গতি ও বাউন্ডারি-লম্বা বলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করবেন।
শ্রীলঙ্কা টিমের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত তিনটি T20 ম্যাচ। এই সিরিজের ফলাফল বিশ্বকাপের জন্য দলকে মানসিক ও কৌশলগত দিক থেকে প্রস্তুত করবে। দলটি এখনো চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড প্রকাশ না করলেও, এই সিরিজের পারফরম্যান্স নির্বাচনের ভিত্তি হবে।



