অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ছয়বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন ইগা স্বিয়াটেক অপ্রত্যাশিতভাবে পঞ্চম সীডের এলেনা রিবাকিনার কাছে পরাজিত হন। ম্যাচটি বুধবার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রিবাকিনা ৫-৭, ১-৬ স্কোরে স্বিয়াটেককে পরাস্ত করেন এবং অর্ধচূড়ান্তে অগ্রসর হন।
পরাজয়ের পর স্বিয়াটেকের মুখোমুখি হওয়া প্রশ্নের ধারাবাহিকতা তীব্র হয়ে ওঠে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন যে টেনিস খেলোয়াড়দের ওপর ধারাবাহিক নজরদারির ফলে তারা যেন চিড়িয়াখানার প্রাণী হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমরা টেনিস খেলোয়াড় নাকি চিড়িয়াখানার পশু?” এবং উল্লেখ করেন যে এমনকি শৌচাগারেও ক্যামেরা রয়েছে, যা তাদের গোপনীয়তা হরণ করে।
স্বিয়াটেকের মন্তব্যের পর তিনি স্বীকার করেন যে হয়তো তিনি অতিরিক্ত কথা বলেছেন। তবু তিনি জোর দেন যে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সময়ের জন্য কিছুটা স্বায়ত্তশাসন থাকা উচিত এবং তারা যেন নিজের মতো করে কিছু করতে পারে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
কয়েক দিন আগে স্বিয়াটেকের আরেকটি বিতর্কজনক ঘটনা ঘটেছিল। পরিচয়পত্র না থাকায় তাকে মেলবোর্ন পার্কে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া হয়, ফলে তিনি রাগে র্যাকেট ভেঙে ফেলেছিলেন। তিনি তখন ভেবেছিলেন যে ক্যামেরা নেই, কিন্তু পরে জানেন যে সেই মুহূর্তটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা তাকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে যে খেলোয়াড়দের গোপনীয়তা এখানে কোনো গুরুত্ব পায় না।
সেই ঘটনার পর স্বিয়াটেক পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে টুর্নামেন্টের পরিবেশে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সম্পূর্ণই অনুপস্থিত। তিনি উল্লেখ করেন যে নিরাপত্তা কর্মীরা সবসময় খেলোয়াড়দের কাছাকাছি থাকে, যা তাদের স্বাভাবিক আচরণকে সীমাবদ্ধ করে। এই ধরনের কঠোর নজরদারি তার মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
ম্যাচের ফলাফল স্বিয়াটেকের ক্যারিয়ারে একটি অপ্রত্যাশিত মাইলফলক চিহ্নিত করে। ছয়টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা থাকা সত্ত্বেও, তিনি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই পর্যায়ে বাদ পড়েছেন। রিবাকিনার জয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে সেমিফাইনালে স্থান দেয়, যেখানে তিনি পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবেন। স্বিয়াটেকের এই পরাজয় টুর্নামেন্টের শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা করে।
স্বিয়াটেকের মন্তব্য টেনিস জগতের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নীতিমালা নিয়ে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। তার অভিজ্ঞতা ও অভিযোগগুলো ভবিষ্যতে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের আয়োজকরা কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পরবর্তী রাউন্ডে রিবাকিনার মুখোমুখি হবে অন্য একটি শীর্ষ খেলোয়াড়, আর স্বিয়াটেকের এই সিজনে অংশগ্রহণ শেষ হয়েছে। টুর্নামেন্টের শিডিউল অনুযায়ী সেমিফাইনাল ম্যাচগুলো আগামী কয়েক দিনে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দর্শক ও মিডিয়া উভয়ই উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছে।



