প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন এবং নিউক্যাসল ইউনাইটেড উভয়ই ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে‑অফ রাউন্ডে নেমে এসেছে, কারণ পার্ক দে প্রিন্সে বুধবারের শেষ লিগ ম্যাচে ১‑১ সমতা বজায় রেখেছে। দু’দলই ১৪ পয়েন্টে আটটি সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে টেবিলের শীর্ষ আটের বাইরে পড়ে।
গেমের প্রথমার্ধে প্যারিসের ভিটিনহা নিকটবর্তী এলাকায় নিচু শট দিয়ে প্রথম গোল করেন, যা দলকে প্রাথমিক সুবিধা দেয়। তবে অর্ধেকের শেষের দিকে নিউক্যাসলের জো উইলক হেডার করে সমান করে, ফলে স্কোর ১‑১ হয়ে যায়।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে লুইস মাইলি হ্যান্ডবলে শাস্তি পায়, তবে ওসমান দেমবেলের পেনাল্টি নিক পোপের হাতে আটকে যায়। প্যারিসের অধিকাংশ সময়ে বলের মালিকানা ছিল, তবে নিউক্যাসল রক্ষণে দৃঢ়তা বজায় রাখে এবং দ্রুত আক্রমণে অ্যান্থনি গর্ডন ও হার্ভি বার্নসের মাধ্যমে হুমকি সৃষ্টি করে, যার লক্ষ্য ছিল গার্ডিয়ান মাতভে সাফোনভকে চ্যালেঞ্জ করা।
বিরতির পর লুইস এনরিকের পরিবর্তনগুলো সত্ত্বেও প্যারিসের দখল বজায় থাকে, আর নিউক্যাসল কনট্রা‑আক্রমণে সক্রিয় থাকে। ভিটিনহা ম্যাচের আটমিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে তীক্ষ্ণ, নিচু শট দিয়ে গল পোস্টের পিছনে গিয়ে গোল করেন, যা একমাত্র পার্থক্য তৈরি করে না, কারণ জো উইলকের হেডার সমান করে।
অর্ধেকের মাঝামাঝি সময়ে নিউক্যাসলের কভিচা কভারাটস্কেলিয়া ট্যাকল থেকে টানা আঘাতে গোড়ালির আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়ে যায়, তার পরিবর্তে ডেসায়ার দৌয়ে প্রবেশ করে। তবে এই পরিবর্তন ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি, এবং শেষ পর্যন্ত স্কোর ১‑১ থাকে।
ফলস্বরূপ উভয় দলই সরাসরি ১৬ দলীয় পর্যায়ে না গিয়ে প্লে‑অফ রাউন্ডে নেমে আসে। প্যারিসের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হবে কারাবাগ অথবা লিগ ১ দলের মনাকো, যা পরের মাসে দুই ম্যাচের সিরিজে নির্ধারিত হবে। নিউক্যাসল, যা প্যারিসের ঠিক এক স্থান নিচে ১২তম স্থানে শেষ করেছে, তার প্রতিপক্ষ হবে অবশিষ্ট দল—যদি প্যারিস মনাকো বেছে নেয় তবে নিউক্যাসল কারাবাগের মুখোমুখি হবে, আর উল্টো হলে কারাবাগের বদলে মনাকো।
ম্যাচের পর প্যারিসের মিডফিল্ডার ভিটিনহা বললেন, “আমরা জয়ী হতে সবকিছু করেছি, তবে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। এখন পরের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে।” দেমবেলেও মন্তব্য করেন, “ফলাফল আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী না হলেও, দলটি কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।”
লুইস এনরিকের কথায় দেখা যায়, “দলটি কঠিন সময়ে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তবে আমাদের শটের গুণমান বাড়াতে হবে।” উভয় কোচের মন্তব্য মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ না থাকায় এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এখন উভয় দলই প্লে‑অফের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে একাধিক ম্যাচের পরিসীমা এবং ভিন্ন ভিন্ন শর্তের মুখোমুখি হতে হবে। প্যারিসের জন্য কারাবাগ অথবা মনাকোয়ের সঙ্গে দ্বি‑ম্যাচের ফলাফল সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরবর্তী রাউন্ডে প্রবেশের চাবিকাঠি হবে।



