মেটা প্ল্যাটফর্মের সিইও মার্ক জুকারবার্গ বুধবারের বিনিয়োগকারী কল‑এ জানিয়েছেন যে, ব্যবহারকারীরা কয়েক মাসের মধ্যে নতুন এআই মডেল ও পণ্য দেখতে পাবেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে মেটা তার এআই প্রোগ্রামের ভিত্তি সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করেছে।
এই পুনর্গঠনকে ভিত্তি করে, মেটা আগামী মাসগুলোতে নতুন মডেল ও পণ্য বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে এবং নতুন বছরের শুরুতে এআই প্রযুক্তির সীমা ধারাবাহিকভাবে বাড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
বিশেষভাবে এআই‑চালিত বাণিজ্যকে মেটা প্রধান ফোকাস হিসেবে তুলে ধরেছেন। জুকারবার্গের মতে, এজেন্টিক শপিং টুলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ক্যাটালগের মধ্যে থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক পণ্যগুলো দ্রুত খুঁজে পাবে।
এই ধরনের এজেন্টিক টুল ব্যবহারকারীর পছন্দ, পূর্বের ক্রয় ইতিহাস এবং বর্তমান প্রবণতা বিশ্লেষণ করে সর্বোত্তম বিকল্প প্রস্তাব করবে। ফলে শপিং অভিজ্ঞতা আরও ব্যক্তিগতকৃত ও কার্যকরী হবে।
শিল্পের অন্যান্য বড় খেলোয়াড়ও এআই‑সক্ষম শপিং সহকারী তৈরি করছে। গুগল এবং ওপেনএআই ইতিমধ্যে এজেন্ট‑সক্ষম লেনদেনের জন্য প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যেখানে স্ট্রাইপ এবং উবারের মতো পার্টনারদের সমর্থন রয়েছে।
তবে মেটা দাবি করে যে, তার বিশাল ব্যবহারকারী ডেটা অ্যাক্সেসের কারণে এআই‑এর ব্যক্তিগতকরণে অন্যদের তুলনায় বিশেষ সুবিধা থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, মেটা এমন এআই তৈরি করতে চায় যা ব্যবহারকারীর ইতিহাস, আগ্রহ, কন্টেন্ট এবং সামাজিক সম্পর্ক সবই বুঝতে পারবে।
এজেন্টের মূল্য নির্ধারণের মূল বিষয় হল এই অনন্য ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট, যা ব্যবহারকারীর জন্য আরও প্রাসঙ্গিক সুপারিশ এবং সেবা প্রদান করতে সক্ষম। মেটা বিশ্বাস করে, এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা বাজারে একক অভিজ্ঞতা দিতে পারবে।
ডিসেম্বরে মেটা সাধারণ‑উদ্দেশ্য এজেন্ট ডেভেলপার ম্যানাসকে অধিগ্রহণ করে। ম্যানাস একই ধরনের প্রযুক্তি সরবরাহ করে এবং মেটা তা চালু রেখে বিক্রি চালিয়ে যাবে, পাশাপাশি নিজস্ব পণ্যে একীভূত করবে।
অধিগ্রহণের পর মেটা ম্যানাসের সেবা চালু রাখার পাশাপাশি তা তার ভবিষ্যৎ এআই পণ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই কৌশলটি মেটার এআই ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
বিনিয়োগকারী কলটি মেটার সর্বশেষ ত্রৈমাসিক আয় প্রকাশের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুষ্ঠিত হয়। আয় প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, মেটা তার অবকাঠামো ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
কোম্পানি এখন মোট মূলধনী ব্যয়ের জন্য ১১৫ বিলিয়ন থেকে ১৩৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। এই বাজেটের বেশিরভাগ অংশ এআই গবেষণা, ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ এবং নতুন পণ্যের উন্নয়নে যাবে।
মেটা কর্তৃক ঘোষিত এই এআই উদ্যোগ এবং এজেন্টিক শপিং টুলের উন্নয়ন ই-কমার্সের ভবিষ্যৎ রূপান্তর করতে পারে। ব্যবহারকারীরা আরও দ্রুত, সঠিক এবং ব্যক্তিগতকৃত শপিং অভিজ্ঞতা পাবেন, আর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন বিক্রয় চ্যানেল ও গ্রাহক সংযোগের সুযোগ দেবে।
সারসংক্ষেপে, মেটা ২০২৬ সালের মধ্যে এআই মডেল, এজেন্টিক শপিং টুল এবং বৃহৎ অবকাঠামো বিনিয়োগের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের পরিমণ্ডলকে পুনর্গঠন করতে চাচ্ছে, যা ব্যবহারকারী ও শিল্প উভয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে।



