23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প প্রশাসন ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জির পারমাণবিক নিরাপত্তা নীতি শিথিল করে

ট্রাম্প প্রশাসন ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জির পারমাণবিক নিরাপত্তা নীতি শিথিল করে

ট্রাম্প সরকার ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি (DOE) কর্তৃক পরিচালিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। এই পরিবর্তনগুলো গত কয়েক মাসে গৃহীত হয়েছে এবং মূলত DOE-র সম্পত্তিতে নির্মিত রিঅ্যাক্টরগুলোর ওপর প্রযোজ্য।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পারমাণবিক স্টার্ট‑আপগুলো বিশাল বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে; মোট এক বিলিয়নেরও বেশি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। ডেটা সেন্টারগুলোর ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা এই ত্বরান্বিত বিনিয়োগের একটি মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে নতুন নিরাপত্তা নীতি এই শিল্পের বিকাশকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি মানব ও পরিবেশের স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

DOE-র নিরাপত্তা নির্দেশিকায় প্রায় তৃতীয়াংশ অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু ধারাকে ব্যাপকভাবে পুনর্লিখন করা হয়েছে। পূর্বে বাধ্যতামূলক ছিল এমন শর্তগুলো, যেমন ভূগর্ভস্থ জল ও পরিবেশের দূষণ রোধের জন্য নির্ধারিত মান, এখন ঐচ্ছিক সুপারিশে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে কর্মীরা পূর্বের তুলনায় বেশি রেডিয়েশন ডোজের সম্মুখীন হতে পারেন।

রিঅ্যাক্টরের সুরক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্বও এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোম্পানির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্বে DOE-র তত্ত্বাবধানে থাকা নিরাপত্তা প্রোটোকলগুলোকে এখন প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নির্ধারণ করবে। এই পরিবর্তনগুলো কোনো জনসাধারণের মতামত সংগ্রহ বা পূর্ব বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই গৃহীত হয়েছে।

নতুন নীতিমালা শুধুমাত্র DOE-র সম্পত্তিতে নির্মিত রিঅ্যাক্টরগুলোকে প্রভাবিত করে; অন্য সব স্থানে নির্মিত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো এখনও নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি কমিশনের (NRC) তত্ত্বাবধানে থাকবে। DOE-র জমিতে ডেমো রিঅ্যাক্টর গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা বেশ কয়েকটি স্টার্ট‑আপ, ট্রাম্প সরকারের নির্ধারিত ৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখের সময়সীমা পূরণে সচেষ্ট।

এই নীতি পরিবর্তনের ফলে শিল্পের দ্রুত বিকাশের সম্ভাবনা বাড়লেও, পরিবেশগত ও মানবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগও তীব্র হয়েছে। নিরাপত্তা মান কমিয়ে দিলে রেডিয়েশন সংস্পর্শের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, পরিবেশে সম্ভাব্য দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য পূর্বে বাধ্যতামূলক মানগুলোকে সুপারিশে রূপান্তরিত করা হলে, ভূগর্ভস্থ জল ও পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের ওপর প্রভাব বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, ডেটা সেন্টার ও অন্যান্য উচ্চ বিদ্যুৎ-চাহিদা সম্পন্ন শিল্পের বৃদ্ধির সঙ্গে পারমাণবিক শক্তির চাহিদা বাড়ার ফলে, এই নীতি পরিবর্তনগুলোকে শিল্পের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্টার্ট‑আপগুলো উল্লেখ করেছে যে, DOE-র সম্পত্তিতে দ্রুত রিঅ্যাক্টর গড়ে তোলার মাধ্যমে তারা নবায়নযোগ্য শক্তি ও ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে।

ভবিষ্যতে, এই নীতি পরিবর্তনের পর্যালোচনা ও সম্ভাব্য সংশোধনের জন্য আইনসভা ও পরিবেশ সংস্থাগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদি নিরাপত্তা মানের হ্রাসের ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে তা রাজনৈতিক ও আইনি পর্যায়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে, স্টার্ট‑আপগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমা পূরণে উৎসাহিত করতে সরকারী সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনা বাড়তে পারে।

সারসংক্ষেপে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে DOE-র পারমাণবিক নিরাপত্তা নীতি শিথিল করা হয়েছে, যা শিল্পের দ্রুত বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে পারে, তবে মানব ও পরিবেশের স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়ে গেছে। এই পরিবর্তনগুলো কেবল DOE-র সম্পত্তিতে নির্মিত রিঅ্যাক্টরকে প্রভাবিত করে, অন্য সব পারমাণবিক কেন্দ্র NRC-র তত্ত্বাবধানে থাকবে। স্টার্ট‑আপগুলো ২০২৬ সালের জুলাই মাসে নির্ধারিত সময়সীমা পূরণে কাজ চালিয়ে যাবে, আর নীতি পরিবর্তনের পরিণতি নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ও জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি গঠন অব্যাহত থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments