দুই সপ্তাহ আগে পটুয়াখালীর বাসস্ট্যান্ডে দুইটি বাসের সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী প্রাণ হারান। শিকারের নাম সাবিকুন নাহার শশী, তিনি স্থানীয় কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ঘটনাটি ঘটেছে যখন একটি যাত্রীবাহী বাস এবং একটি আন্তঃজেলা বাস একই সময়ে স্ট্যান্ড থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পারস্পরিক প্রতিযোগিতা করছিল।
সাক্ষীদের মতে, দুটো গাড়ি একে অপরকে অগ্রগতি বাড়াতে তীব্র গতি বাড়িয়ে স্ট্যান্ডের সামনে একে অপরের দিকে ধাক্কা দেয়। এই মুহূর্তে শশী স্ট্যান্ডের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং ধাক্কা পাওয়া গাড়িগুলোর ধুলো ও ধাক্কা তাকে আঘাত করে। প্রথমে তিনি গুরুতর আঘাতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা সত্ত্বেও শশীর শ্বাসযন্ত্রের গুরুতর ক্ষতি এবং অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের কারণে তার মৃত্যু ঘটে। পরিবারকে ঘটনাস্থলে জানানো হয় এবং শশীর দেহকে শোকের ছায়ায় দাফন করা হয়।
স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। গাড়িগুলোর ড্রাইভারদের সঙ্গে আলাপের পর জানা যায়, দুটো বাসই একই সময়ে স্ট্যান্ড থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। গাড়িগুলোর রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং চালকের পরিচয় রেকর্ড করা হয়।
পুলিশের মতে, দুটো গাড়ির গতি ও অপ্রয়োজনীয় ত্বরান্বিত চালনা এই ধাক্কার প্রধান কারণ। ঘটনাস্থলে গাড়িগুলোর টায়ার চিহ্ন এবং ভাঙা গ্লাসের বিশ্লেষণ করে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুজন চালককে গ্রেফতার করে জেলখানায় রাখা হয়েছে।
ফৌজদারি দায়ের ভিত্তিতে শিকারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার অধিকার রয়েছে। স্থানীয় থানা থেকে FIR দাখিল করা হয়েছে এবং মামলাটি পটুয়াখালীর সিভিল জুডিশিয়াল সেকশনে পাঠানো হবে। আদালত শিকারের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য জরুরি আদেশ জারি করতে পারে।
২০২৬ সালের প্রথম ৭২ ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে বছরের শেষের দিনগুলোতে এবং নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই সময়ে গাড়িগুলোর বেপরোয়া গতি ও একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ডিসেম্বরের শেষের দিকে এবং জানুয়ারির প্রথম দিকে প্রতিদিনই একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, চালকদের মধ্যে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য অযথা ত্বরান্বিত চালনা বাড়ছে। ফলে পথচারী ও যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা দশ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড করেছে। যদিও রাস্তাঘাটের অবকাঠামো উন্নত হয়েছে, তবে চালকদের শৃঙ্খলা ও নিরাপদ চালনার অভ্যাস গড়ে তোলায় বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। এই ধারাবাহিকতা রাস্তায় নিয়ম ভঙ্গের সংস্কৃতি গড়ে তুলছে।
স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগ ও রোড সেফটি অথরিটি এই ঘটনাকে নিয়ে জরুরি সভা করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ডের মতো সংযোগস্থলে গাড়ির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য সিগন্যাল ও রোড সাইনেজ বাড়াতে হবে।
অধিকন্তু, চালকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পথচারী ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোডে গতি সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং লঙ্ঘনকারী চালকদের শাস্তি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
শশীর মৃত্যু একটি দুঃখজনক ঘটনা হলেও এটি সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়। কর্তৃপক্ষের ত্বরান্বিত পদক্ষেপ এবং সমাজের সচেতনতা মিলিয়ে যদি সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায়, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হবে।



