চেলসি এবং নাপোলি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ গেমে মুখোমুখি হয়। চেলসির জয় নিশ্চিত হওয়ায় দলটি গ্রুপে সরাসরি পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হয়েছে, আর নাপোলি দুই ম্যাচের প্লে‑অফের মুখে পড়ে। ম্যাচটি স্টেডিও ডিয়েগো আর্মান্ডো মারাদোনায় অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষ মুহূর্তের গতি-প্রবাহে চেলসির জয় নিশ্চিত হয়।
প্রথমার্ধে নাপোলি রাশমাস হোয়েলুন্ডের গোলের মাধ্যমে অগ্রগতি অর্জন করে। তবে চেলসির রক্ষণাত্মক ত্রুটির কারণে রবার্ট সানচেজ ৭ম মিনিটে বলের ওপর দেরি করেন, ফলে স্কট ম্যাকটোমিনে দ্রুত গলিপোস্টের দিকে শট নিতে পারেন। যদিও সানচেজের ভুলে নাপোলি তৎক্ষণাৎ সুযোগ পায় না, তবু ম্যাচের তীব্রতা বাড়ে।
১৯তম মিনিটে নাপোলির মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ পেনাল্টি নেয় এবং তা সফলভাবে সম্পন্ন করে। রেফারি ক্লেমঁ তুরপিনের সিদ্ধান্তে জুয়ান জেসুসের বাম হাতের ব্লকিংকে ফ্রি-কিকের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়। এই পেনাল্টি নাপোলির একমাত্র গোল হয়ে থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে চেলসির কোচ লিয়াম রোজেনিয়র পরিবর্তন আনা করেন। কোল প্যালমারকে মাঠে নামিয়ে তিনি দ্রুতই দলের আক্রমণকে ত্বরান্বিত করেন। প্যালমার জোয়াও পেদ্রোর জন্য দু’টি গুরুত্বপূর্ণ পাস দেন, যার ফলে পেদ্রো দু’বার গোল করে নাপোলির প্রতিরক্ষা ভেঙে দেয়। প্যালমারের এই সাফল্য চেলসির আক্রমণকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যায়।
রোজেনিয়র ৩‑৪‑২‑১ ফরমেশন ব্যবহার করেন, যেখানে মালো গাস্টো ও পেড্রো নেটো উইং‑ব্যাক হিসেবে খেলেন। রিয়াস জেমস, মার্ক কুকুরেলা এবং ওয়েসলি ফোফানা কেন্দ্রীয় রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন। নাপোলির দলে আঘাতজনিত সমস্যার কারণে বেঞ্চে মাত্র পাঁচজন আউটফিল্ড প্লেয়ার ছিল, ফলে তাদের বিকল্পের সুযোগ সীমিত থাকে। তবু নাপোলি ফ্ল্যাঙ্কে স্থান তৈরি করে এবং কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
চেলসির রক্ষণাত্মক দিকেও কিছু ফাঁক দেখা যায়, বিশেষ করে মাঝখানে দু’জন ডিফেন্ডার একসাথে খেলতে না পারায় কিছু সময়ে বিপদের মুখে পড়ে। তবে রোজেনিয়রের পরিবর্তন পরিকল্পনা এবং প্যালমারের ত্বরিত আক্রমণ শেষ পর্যন্ত দলকে সুরক্ষিত রাখে।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে চেলসির জয় নিশ্চিত হয়, যা দলকে গ্রুপে শীর্ষ আটের মধ্যে স্থান দেয় এবং প্লে‑অফের ঝুঁকি থেকে মুক্তি দেয়। এই জয় চেলসির জন্য তিন বছরের বেশি সময়ে প্রথম বিদেশি মাটিতে জয় হিসেবে উল্লেখযোগ্য। নাপোলি, যদিও এক গোল পেয়েছে, তবে দুই ম্যাচের প্লে‑অফে প্রবেশের জন্য এখন অতিরিক্ত কাজ বাকি।
পরবর্তী ম্যাচে চেলসি ইউরোপীয় লিগের পরবর্তী রাউন্ডে মুখোমুখি হবে, আর নাপোলি তাদের প্লে‑অফ প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বি-সপ্তাহের মধ্যে মুখোমুখি হবে। উভয় দলই এই ফলাফল থেকে শিখে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নেবে।



