সেনেট ফোরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি বুধবার ভেনেজুয়েলা বিষয়ক একটি সর্বজনীন শোনানির আয়োজন করে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিবের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিশদ প্রশ্ন তোলা হয়। শোনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারাকাসে বোমা হামলা এবং নিকোলাস মাদুরোকে জেল থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরবর্তী প্রক্রিয়া আলোচনার মূল বিষয় ছিল। কমিটির সদস্যরা দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে, এই শোনানিতে ভেনেজুয়েলা বিষয়ক নীতি ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা চাওয়া হয়।
শোনানির প্রস্তুতি কয়েক মাসের আলোচনার পর শেষ হয়; কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য মাদুরোর জেলভুক্তি এবং ক্যারাকাসে বোমা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র সচিবকে প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন। এই শোনানির সময়সূচি ট্রাম্প প্রশাসনের অপ্রত্যাশিত বায়ু হামলা এবং ৩ জানুয়ারি ভোরে মাদুরোর ক্ষমতা হরণ করার পর নির্ধারিত হয়।
ডেমোক্র্যাট টিম কেইন, শোনানির সূচনায় উল্লেখ করে, “অবশেষে একটি সর্বজনীন শোনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে” এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা নীতি কীভাবে গড়ে উঠেছে তা সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মাদুরো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জেলে আটক এবং দেশের নেতৃত্বে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ দায়িত্বে আছেন।
কেইন আরও জানিয়ে দেন যে, ক্যারিবিয়ানে সন্দেহভাজন মাদক জাহাজের ওপর প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ঘটেছিল, যা প্রায় পাঁচ মাস আগে। তিনি এই হামলার বৈধতা নিয়ে গোপনীয় আলোচনার সমালোচনা করে, যে এই বিষয়গুলো বন্ধ দরজার পিছনে আলোচনা হয়েছিল তা উল্লেখ করেন।
শোনানির মূল বিষয়বস্তু ছিল এই বছর ডেল্টা ফোর্সের একটি অপারেশন, যেখানে মাদুরোকে তার পায়জামা পরিহিত অবস্থায় ভেনেজুয়েলা থেকে বের করে নিউ ইয়র্কে মাদক পাচার মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। এই অপারেশনটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সীমা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব রুবিও শোনানির লিখিত উদ্বোধনী বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধ অবস্থায় নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কোনো দেশ দখল করিনি এবং এখানে কোনো মার্কিন সৈন্য উপস্থিত নেই”। এই বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি না থাকা এবং কোনো দখল না করার বিষয়টি তুলে ধরেন।
রুবিও আরও উল্লেখ করেন যে, ক্যারাকাসে পরিচালিত সামরিক কার্যক্রমকে তিনি আইন প্রয়োগের একটি অপারেশন হিসেবে বিবেচনা করেন, যুদ্ধ নয়। তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল মাদুরোর ওপর মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ প্রমাণ করা, না যে কোনো ভূখণ্ডীয় আক্রমণ করা।
প্রতিবাদী র্যান্ড পল, রিপাবলিকান সেনেটর, রুবিওর এই ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ করে, তাকে “মাদক ধরা” অপারেশন বলে সমালোচনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পল যুক্তি দেন যে, সামরিক শক্তি ব্যবহার করার জন্য যথেষ্ট ন্যায়সঙ্গত কারণ নেই এবং এটি সংবিধানের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা লঙ্ঘন করতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকরা যুক্তি দেন যে, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যুদ্ধ ঘোষণার একমাত্র ক্ষমতা হিসেবে নির্ধারিত। তারা ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টের লঙ্ঘনের সম্ভাবনা উল্লেখ করে, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক অভিযানকে সীমাবদ্ধ করে।
শোনানির সময় রুবিও এই সমালোচনার মুখে তার অবস্থান থেকে সরে না গিয়ে বারবার জোর দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাজ সম্পূর্ণভাবে আইনগত এবং কোনো যুদ্ধের সূচনা নয়। তিনি এই বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল মাদুরোর ওপর মাদক অপরাধের দায়িত্ব প্রমাণ করা, যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বৈধ।
বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে এই শোনানির ফলাফলকে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের পুনর্গঠন এবং কংগ্রেসের তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখছেন। শোনানির পরবর্তী ধাপ হিসেবে কংগ্রেসের সম্ভাব্য আইনসভার আলোচনার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক হস্তক্ষেপের বৈধতা ও সীমা নির্ধারণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া, ভেনেজুয়েলায় অস্থায়ী সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনঃনির্মাণে এই শোনানি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।



