এক্স (পূর্বে টুইটার) সম্প্রতি একটি নতুন ফিচার প্রকাশ করেছে, যা সম্পাদিত ছবি ও ভিডিওকে “ম্যনিপুলেটেড মিডিয়া” হিসেবে চিহ্নিত করবে। এই ঘোষণা এলন মাস্কের এক্স পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়, যেখানে তিনি “Edited visuals warning” শিরোনামে একটি বার্তা শেয়ার করেছেন।
এলন মাস্কের পোস্টটি ডোজডিজাইনার নামে একটি অজ্ঞাত এক্স অ্যাকাউন্টের ঘোষণাকে রি-শেয়ার করে করা হয়। ডোজডিজাইনার এক্সে নতুন ফিচার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য প্রায়ই ব্যবহৃত হয়, এবং মাস্কের রি-টুইট সাধারণত সেই তথ্যকে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে দেয়।
ডোজডিজাইনারের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন লেবেলিং সিস্টেমটি পুরনো মিডিয়া সংস্থাগুলোর দ্বারা ভুল তথ্যপূর্ণ ক্লিপ বা ছবির প্রচারকে কঠিন করে তুলবে। এছাড়া, এই ফিচারটি এক্সের জন্য সম্পূর্ণ নতুন বলে দাবি করা হয়েছে।
এক্সের পূর্বসূরি টুইটারও একই ধরনের নীতি প্রয়োগ করেছিল। টুইটার অধিগ্রহণের আগে, প্ল্যাটফর্মটি পরিবর্তিত, বিকৃত বা কৃত্রিমভাবে তৈরি মিডিয়াকে সরাসরি মুছে না ফেলে লেবেল দিয়ে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করত।
সেই সময়ের নীতি কেবল এআই-সৃষ্ট কন্টেন্টেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এতে ফটো বা ভিডিওর নির্বাচিত এডিটিং, ক্রপিং, স্লো ডাউন, ওভারডাবিং এবং সাবটাইটেল পরিবর্তনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই তথ্যটি ২০২০ সালে সাইটের ইন্টেগ্রিটি প্রধান ইউয়েল রথের বিবৃতিতে উল্লেখিত হয়।
এক্স বর্তমানে একই নীতি গ্রহণ করেছে কিনা বা এআই-সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে কোনো নতুন দিক যোগ করেছে কিনা স্পষ্ট নয়। কোম্পানির হেল্প ডকুমেন্টে এখনও অপ্রামাণিক মিডিয়া শেয়ারিংয়ের বিরুদ্ধে নীতি উল্লেখ আছে, তবে বাস্তবে তা কমই প্রয়োগ হয়।
সম্প্রতি এক্সে ডিপফেক নুড ছবি শেয়ার করার ঘটনা এই নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ব্যবহারকারীরা সম্মতি ছাড়া প্রকাশিত এই ধরনের কন্টেন্টের ফলে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের শিকার হয়, এবং প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি প্রকাশ পায়।
হোয়াইট হাউসও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তিত ছবি শেয়ার করেছে, যা দেখায় যে সরকারী সংস্থাগুলিও কখনো কখনো এই ধরনের মিডিয়া ব্যবহার করে। তাই “ম্যনিপুলেটেড মিডিয়া” বা “এআই ইমেজ” লেবেলিংয়ের মানদণ্ড স্পষ্ট করা জরুরি।
এক্স দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ, যেখানে তথ্যের সত্যতা প্রায়শই প্রশ্নের মুখে থাকে। ব্যবহারকারীরা জানতে চায়, কোন ধরনের সম্পাদনা বা এআই প্রক্রিয়া লেবেল ট্রিগার করবে।
এই ফিচারটি কীভাবে কাজ করবে, তা এখনও প্রকাশিত হয়নি। বিশেষ করে, ঐতিহ্যবাহী ফটোশপের মতো টুল দিয়ে করা সাধারণ এডিটিংকে কি “ম্যনিপুলেটেড মিডিয়া” হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তা অনিশ্চিত।
এক্সের নীতি অনুসারে, যদি কোনো কন্টেন্টকে পরিবর্তিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে তা ব্যবহারকারীর ফিডে সতর্কতা বার্তা সহ প্রদর্শিত হবে। তবে লেবেলিংয়ের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড এবং স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনও কোনো বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি।
ব্যবহারকারীদের জন্য এই তথ্যের স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ লেবেলযুক্ত কন্টেন্টের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া প্ল্যাটফর্মের সামগ্রিক তথ্য পরিবেশকে প্রভাবিত করে। ভবিষ্যতে এই ফিচারটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা এক্সের নীতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল।
সারসংক্ষেপে, এক্স এখন একটি নতুন সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পাদিত ভিজ্যুয়াল কন্টেন্টকে “ম্যনিপুলেটেড মিডিয়া” হিসেবে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। যদিও বিস্তারিত এখনও অজানা, এই পদক্ষেপটি তথ্যের সত্যতা রক্ষার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে।



