23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতারেক রহমানের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান

তারেক রহমানের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান

বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে একক সাক্ষাৎকারে দেশের জনগণকে রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেতে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি জানালেন। ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে প্রথম প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের পরিকল্পনার কেবল ত্রিশ শতাংশ বাস্তবায়ন হলেও জনগণের সমর্থন পাবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

তারেক রহমানের মতে, “আমি যদি আমার পরিকল্পনার ৩০ ভাগও বাস্তবায়ন করতে পারি, আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবেন।” তিনি জোর দিয়ে বললেন, রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য যারা (জুলাই অভ্যুত্থানে) প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা অটুট এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয় প্রয়োজন।

টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার চালু করেছে, তা স্বৈরতন্ত্রের দিকে ফিরে যাওয়া রোধে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য গড়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সংস্কারগুলোকে ভিত্তি করে তারেক রহমানের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসনের সময় তিনি আত্মপর্যালোচনা ও পরিপক্বতা অর্জন করেছেন, যা তাকে দেশের প্রকৃত নেতা হিসেবে গড়ে তুলবে।

তারেকের সমর্থকরা তাকে নিপীড়নের শিকার জনগণের মুক্তিদাতা হিসেবে দেখেন, যিনি মাতৃভূমির সমস্যাগুলো সমাধানে ফিরে এসেছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা তার নেতৃত্বের যোগ্যতা পারিবারিক সূত্রে পাওয়া সুযোগের ফল বলে সমালোচনা করেন। তবুও তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে বলেন, “এই বিভক্ত জাতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনিই সঠিক ব্যক্তি।”

তারেকের লন্ডন থেকে দেশে ফিরে আসা ২৫ ডিসেম্বরের দিনই লক্ষ লক্ষ সমর্থক তাকে স্বাগত জানায়। তবে পাঁচ দিন পরই তার মা এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর মৃত্যুবরণ করেন। খালেদা জিয়ার দেহান্ত্য অনুষ্ঠান রাজধানীর রাস্তায় বিশাল জনসমাগমের সৃষ্টি করে। শোকের মুহূর্তে তারেক তার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমার হৃদয় বড় বেশি দুঃখভারাক্রান্ত। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে আমি এই শিক্ষা পেয়েছি, যখন কোনো দায়িত্ব আপনার ওপর অর্পিত হয়, তখন আপনাকে অবশ্যই তা পালন করতে হবে।”

এই শোকের পরও তারেক রহমান রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থেকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, “যাঁরা (জুলাই অভ্যুত্থানে) প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণ যাতে তাঁদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পান, সে জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, তারেকের এই ঘোষণার পরবর্তী ধাপ হবে তার পরিকল্পনার মূল দিকগুলোকে বাস্তবায়ন করা এবং নোবেল বিজয়ী ইউনূসের সংস্কারগুলোকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংহত করা। যদি তার পরিকল্পনা সফল হয়, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা থেকে রক্ষা করতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধীরা তার নেতৃত্বের স্বচ্ছতা ও স্বতন্ত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, যা রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমানের এই প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি আনতে পারে। তিনি যদি তার পরিকল্পনার একাংশই কার্যকর করতে পারেন, তবে তা জনগণের সমর্থন অর্জনে সহায়ক হবে এবং রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতে তারেকের পদক্ষেপ এবং সরকারের সংস্কারমূলক নীতি কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করবে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments