ব্ল্যাকপিঙ্কের ভোকালিস্ট রোজে ২৮ জানুয়ারি তারিখে প্রকাশিত পডকাস্টে গ্রুপের আসন্ন মিনি‑অ্যালবাম ও সদস্যদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে শোনেন। তিনি নতুন রেকর্ডের শিরোনাম “ডেডলাইন” উল্লেখ করে বলেন, এটি ২০২২ সালের “বর্ন পিংক” পরের প্রথম সমষ্টিগত সঙ্গীত প্রকাশ হবে। একই আলোচনায় তিনি গ্রুপের কোনো সদস্য যদি দল ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে তা কীভাবে সামলানো হবে তা নিয়ে মতামত শেয়ার করেন।
রোজে উল্লেখ করেন, “ডেডলাইন” অ্যালবামটি গঠিত হয়েছে যখন চারজনই এক বছরব্যাপী সলো প্রকল্পে ব্যস্ত ছিলেন এবং ব্যক্তিগতভাবে নিজস্ব সঙ্গীত শৈলী অন্বেষণ করছিলেন। এই সময়ের পর দলটি পুনরায় একত্রিত হয়ে নতুন সুর তৈরি করেছে, যা তিনি শোনার পর বেশ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অ্যালবামের সব গানই তার দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় এবং প্রত্যেকটি আলাদা স্বাদ বহন করে।
অ্যালবামের প্রধান সিঙ্গেল “জাম্প” জুলাই মাসে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। রোজে এই ট্র্যাকের সৃষ্টিকর্তা হিসেবে নিজেকে উল্লেখ না করে, গানের শক্তি ও উচ্ছ্বাসের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, এটি গ্রুপের পূর্বের শৈলীর সঙ্গে নতুন রিদমের মিশ্রণ ঘটিয়েছে। তিনি আরও জানান, “জাম্প” এর সুরে কিছু ভিন্নতা রয়েছে, যা শোনার পর শোনার দল ও বন্ধুদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন।
রোজে ভবিষ্যতে প্রকাশিত হতে যাওয়া একটি সহযোগিতামূলক প্রকল্পের ইঙ্গিত দেন, যা তিনি “বড় ফাঙ্কি মিক্স” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এই নতুন ট্র্যাকটি “জাম্প” এর মতই উচ্ছ্বাসপূর্ণ, তবে সুরের গঠন ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ভিন্ন রকমের, যা শোনার পর ভক্তদের জন্য একটি তাজা অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। এই প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট বিবরণ এখনও গোপন, তবে রোজে তার দল ও বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করার পর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন।
ব্ল্যাকপিঙ্ক ২০১৬ সালে ইয়েজি এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে ডেবিউ করে, এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে। বহু বছর পর, গ্রুপটি ২০২৪ সালে ব্যক্তিগত সলো ক্যারিয়ারের জন্য বিরতি নেয় এবং পরে পুনরায় চুক্তি নবায়ন করে, যা গত বছর গ্রীষ্মে বিশ্বব্যাপী ট্যুরের মাধ্যমে পুনর্মিলনকে চিহ্নিত করে। এই পুনর্মিলনই “ডেডলাইন” অ্যালবামের ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
সদস্যদের মধ্যে কোনো একজন যদি দল ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে রোজে তা নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, যদি কোনো সময়ে একজন সদস্যের অনুভূতি পরিবর্তিত হয় এবং তিনি গ্রুপে আর থাকতে না চান, তবে বাকি তিনজন তা সম্মান করবে এবং তার সিদ্ধান্তকে স্বীকার করবে। তিনি এটিকে একটি সম্পর্কের মতো তুলনা করেন, যেখানে এক পক্ষের ইচ্ছা না মেনে চলা সম্ভব নয়।
রোজে আরও উল্লেখ করেন, ব্ল্যাকপিঙ্কের শক্তি তার চারজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত, তাই কোনো এক সদস্যের অনুপস্থিতি পুরো গ্রুপের কাঠামোকে প্রভাবিত করবে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দলটি কীভাবে সামলাবে তা নিয়ে তারা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছে এবং প্রত্যেকের স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করার নীতি মেনে চলবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রুপের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও পারস্পরিক সমঝোতার ওপর জোর দেয়।
ফ্যানদের জন্য রোজের এই মন্তব্যগুলো নতুন অ্যালবাম ও সম্ভাব্য পরিবর্তনের প্রতি উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। “ডেডলাইন” অ্যালবাম ও আসন্ন সহযোগিতামূলক ট্র্যাকের প্রকাশের অপেক্ষা এখন আরও তীব্র হয়েছে, এবং গ্রুপের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া ভক্তদের জন্য আশ্বাসজনক। রোজের মতে, গ্রুপের সঙ্গীতের গুণগত মান ও সদস্যদের পারস্পরিক সম্মানই ব্ল্যাকপিঙ্ককে আন্তর্জাতিক মঞ্চে টিকে রাখার মূল চাবিকাঠি।
ব্ল্যাকপিঙ্কের ভক্তরা এখন অ্যালবাম প্রকাশের তারিখ, নতুন সিঙ্গেল ও সহযোগিতামূলক প্রকল্পের বিস্তারিত জানার জন্য অপেক্ষা করছেন, একই সঙ্গে গ্রুপের অভ্যন্তরীণ সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে আশাবাদী। রোজের মন্তব্যগুলো গ্রুপের সঙ্গীত যাত্রাকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যা শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।



