ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপোর উদ্বোধন ও “বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ” ওয়েবসাইট‑লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সরকারি কর্মচারীর মেয়াদ পাঁচ বছরের বেশি হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় একই পদে থাকা কর্মচারীর মানসিকতা স্থির হয়ে যায় এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনা প্রয়োজন।
উক্তি অনুসারে, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ত্বরান্বিত গতিতে চলমান, আর নীতি প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে। তবু অনেক সরকারি কর্মী পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলাতে পারছেন না, ফলে নীতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে ফাঁক তৈরি হচ্ছে। ইউনূস বলেন, প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে এমন কর্মী থাকলে যাঁর জ্ঞান ত্রিশ বছর আগের, তখনকার প্রযুক্তি ভিত্তিক, তবে ত্রিশ বছর পর পুরো দুনিয়া বদলে যায়; এ ধরনের কর্মীকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেওয়া দরকার।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সরকারী নীতি তৈরির প্রক্রিয়ায় নিয়মিত পরিবর্তন ও আপডেট প্রয়োজন, যাতে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী নীতি গড়ে ওঠে। পুরোনো কাঠামো ও নিয়মকে অটুট ধরে রাখার প্রবণতা সরকারকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলছে, ফলে সংশোধন প্রয়োজন। ইউনূসের মতে, ব্রিটিশ শাসনামলে গৃহীত নীতিগুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে সেগুলোর ওপর আধুনিক পরিবর্তন আনতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, প্রতিটি সরকারি সংস্থা দশ বছর পরপর শূন্য থেকে পুনর্গঠন করা উচিত, যাতে নতুন লক্ষ্য ও নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা যায়। তিনি বলেন, পুরোনো কাঠামোকে আঁকড়ে রাখার বদলে প্রযুক্তি-ভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলা দরকার, নতুবা দেশের উন্নয়ন সুযোগ হারাবে। এই দ্বন্দ্বে প্রযুক্তি জয়ী হওয়া উচিত, না হলে সরকার ফলোয়ার হয়ে রয়ে যাবে এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে পিছিয়ে পড়বে।
ইউনূসের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, তার প্রস্তাবনা সরকারী কর্মী নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিতে পুনর্বিবেচনার দরকার নির্দেশ করে। যদি বাংলাদেশ সরকার এই দিকের সংস্কার গ্রহণ করে, তবে সরকারি সেবা ও নীতি বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত হতে পারে। অন্যদিকে, বিদ্যমান প্রশাসনিক গোষ্ঠী এই ধরনের পরিবর্তনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতে পারে এবং প্রতিরোধের সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, এক্সপো ও ইনোভেশন চ্যালেঞ্জের উদ্বোধনই প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে, এবং ইউনূসের বক্তব্য এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি শেষ করে বলেন, সরকারকে পুরোনোকে ছেড়ে নতুন প্রযুক্তি‑ভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলার জন্য নেতৃত্ব দিতে হবে, নতুবা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।



