অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগের প্রায় দুই মাস পরেও দুইজন প্রাক্তন উপদেষ্টা, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম, এখনও সরকারি বাসা ব্যবহার করছেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, আর মাহফুজ আলম একই দিনে উপদেষ্টা পরিষদে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। পদত্যাগের পর ৫০ দিন ধরে উভয়ই ঢাকা শহরের হেয়ার রোডে অবস্থিত সরকারি বাসা নিলয়‑৬-এ অবস্থান করেন।
মাহফুজ আলমের দাবি অনুযায়ী, তিনি নির্বাচনের আগে বাসা ছেড়ে দেবেন এবং এক মাস আগে বাসা ছেড়ে পরিবাগের বাসায় বসবাস করছেন। তবে হেয়ার রোডের ‘উত্তরায়ণ‑৩’ ডুপ্লেক্সে তার বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, তিনি সরকারি বাসা ব্যবহার করছেন না এবং এক মাস আগে বাসা ছেড়ে পরিবাগে গেছেন।
তবে হেয়ার রোডের নিলয়‑৬-এ বাসা পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলার পর জানা যায়, আসিফ এখনও বাসা ব্যবহার করছেন। একই কর্মচারী জানান, “স্যার আছেন, বাসা ছাড়েননি।”
নিলয়‑৬-এ অন্য এক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীও নিশ্চিত করেন, “আসিফ এখনো বাসা ব্যবহার করছেন।” তিনি উল্লেখ করেন, আসিফ বেশিরভাগ সময় পরিবাগের বাসায় থাকেন, তবে সরকারি বাসা থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে গেছেন না।
নিলয়‑৬ আশেপাশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যের মতে, আসিফ সেখানে তার রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যান, লোকজনকে আহ্বান করেন এবং বাসা ব্যবহার করে কাজ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস উইংের পূর্বে জানানো হয়েছিল, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগপত্র গৃহীত হবে। ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষিত হয়।
পদত্যাগের পর ৫০ দিন ধরে উভয় উপদেষ্টা সরকারি বাসায় ছিলেন, যদিও তারা দুজনই নির্বাচনের আগে বাসা ছেড়ে দেবেন বলে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রাক্তন উপদেষ্টাদের বাসা ছাড়ার সময়সীমা বা পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, বাসা বরাদ্দ নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বাসা ছাড়ার কোনো ধারা নেই।
এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ইঙ্গিত করছেন, সরকারি বাসা ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক দলের নেতৃত্বে থাকা আসিফের অবস্থান, তার নির্বাচনী ভূমিকা ও বাসা ব্যবহার একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও অন্যান্য পার্টির প্রতিনিধিরা দাবি করেন, সরকারি সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত এবং নির্বাচনের আগে বাসা ছেড়ে দেওয়া নৈতিক দায়িত্বের অংশ।
সরকারি বাসা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালার পুনর্বিবেচনা এবং তদারকি শক্তিশালী করার আহ্বানও বাড়ছে। ভবিষ্যতে যদি একই রকম ঘটনা পুনরাবৃত্তি হয়, তবে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনমতের আস্থা ক্ষয় করতে পারে।
এই বিষয়টি এখন পর্যন্ত সরকারি দপ্তরের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি, তবে পরবর্তী পদক্ষেপে বাসা বরাদ্দ নীতি সংশোধন বা তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।



