অ্যাপল প্যাট্রিয়নকে নির্দেশ দিয়েছে যে নভেম্বর ১, ২০২৬ তারিখের মধ্যে সব স্রষ্টাদের ইন‑অ্যাপ পারচেজের মাধ্যমে সাবস্ক্রিপশন চালাতে হবে। এই নতুন সময়সীমা অ্যাপলের ২০২৪ সালে ঘোষিত সাবস্ক্রিপশন বিলিং নীতির অংশ, যা পূর্বে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল।
প্যাট্রিয়নের মোট স্রষ্টাদের প্রায় ৪ শতাংশই এখনও পুরনো বিলিং মডেল ব্যবহার করছে, তাই নতুন নিয়মের সরাসরি প্রভাব সীমিত হলেও স্রষ্টা সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অ্যাপল এই পরিবর্তনকে বাধ্যতামূলক করে তুলেছে যাতে সব পেমেন্ট অ্যাপ স্টোরের কমিশন কাঠামোর অধীনে থাকে।
২০২৪ সালে অ্যাপল ঘোষণা করেছিল যে প্যাট্রিয়নকে তার সব স্রষ্টাকে ইন‑অ্যাপ পারচেজ ব্যবহার করে সাবস্ক্রিপশন গ্রহণে বাধ্য করতে হবে, নতুবা অ্যাপ স্টোর থেকে অপসারণের ঝুঁকি থাকবে। অ্যাপল এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে প্যাট্রিয়নের কিছু স্রষ্টার সাবস্ক্রিপশন পেমেন্ট সরাসরি পরিচালনা করার বিষয়টি উল্লেখ করেছে, যা তারা অ্যাপ স্টোরের ফি এড়িয়ে যাওয়া হিসেবে দেখেছে।
প্যাট্রিয়নকে এই পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। কোম্পানি জানিয়েছিল যে নভেম্বর ২০২৪ থেকে স্রষ্টাদের সাবস্ক্রিপশনকে ইন‑অ্যাপ পারচেজে স্থানান্তর করা শুরু হবে, এবং স্রষ্টারা তাদের সাবস্ক্রিপশন মূল্যে বাড়তি ফি অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলে তা করতে পারবে। অতিরিক্তভাবে, প্রয়োজনীয় সময় না থাকলে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বিলম্বের সুযোগও দেওয়া হয়েছিল।
মার্চ ২০২৪-এ যুক্তরাষ্ট্রের এপিক বনাম অ্যাপল মামলায় আদালত অ্যাপ স্টোরের কিছু বিধি শিথিল করার নির্দেশ দেয়। এর ফলে প্যাট্রিয়ন তার অ্যাপের মধ্যে লিঙ্কের মাধ্যমে ওয়েব পেমেন্ট গ্রহণের সুবিধা যোগ করে, যা পূর্বে নিষিদ্ধ ছিল। এই পরিবর্তনের সময় প্যাট্রিয়ন জানিয়েছিল যে পূর্বের নভেম্বর ২০২৫ শেষ তারিখ আর প্রযোজ্য নয়, ফলে স্রষ্টাদের জন্য অতিরিক্ত সময় তৈরি হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাপল আবার একই ধরনের শর্ত পুনরায় প্রয়োগ করেছে এবং নতুন সময়সীমা হিসেবে নভেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করেছে। প্যাট্রিয়ন উল্লেখ করেছে যে এই পুনঃপ্রয়োগ স্রষ্টাদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী তারা ইতিমধ্যে ওয়েব পেমেন্টের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।
প্যাট্রিয়ন এই পরিবর্তনকে “অ্যাপলের শর্তের অনিয়মিত পরিবর্তন” হিসেবে উল্লেখ করে, যা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসা গড়ে তোলার জন্য স্রষ্টাদের জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি করে। কোম্পানি দাবি করে যে ধারাবাহিক নীতি না থাকলে স্রষ্টারা তাদের আয় পরিকল্পনা ও সাবস্ক্রিপশন মূল্য নির্ধারণে সমস্যার সম্মুখীন হয়।
নতুন শর্তের অধীনে প্যাট্রিয়নের স্রষ্টারা ইন‑অ্যাপ পারচেজ ছাড়া অ্যাপের ভিতরে সাবস্ক্রিপশন অফার করতে পারবে না। যদি তারা এই শর্ত মেনে না চলে, তবে তাদের অ্যাপ স্টোরে উপস্থিতি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে, যা ব্যবহারকারীর প্রবেশাধিকার ও আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
অ্যাপলের এই পদক্ষেপের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হল App Store এর ১৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত কমিশন কাঠামো বজায় রাখা। স্রষ্টা ও প্ল্যাটফর্ম উভয়ই এই ফি বাড়ার ফলে আয় হ্রাসের মুখে পড়তে পারে, বিশেষ করে ছোট স্কেলের স্রষ্টাদের জন্য।
প্যাট্রিয়ন এখন স্রষ্টাদেরকে নতুন শর্ত মেনে চলার জন্য প্রযুক্তিগত আপডেট এবং মূল্য নির্ধারণের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বলছে। একই সঙ্গে, কোম্পানি স্রষ্টাদেরকে বিকল্প পেমেন্ট পদ্ধতি অনুসন্ধান করতে উৎসাহিত করছে, যদিও তা অ্যাপ স্টোরের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
ভবিষ্যতে এই ধরনের নীতি পরিবর্তন স্রষ্টা ইকোসিস্টেমে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও অনিশ্চিত। তবে স্পষ্ট যে, অ্যাপল এবং প্যাট্রিয়নের মধ্যে চলমান আলোচনার ফলে স্রষ্টাদের ব্যবসায়িক মডেল পুনর্গঠন এবং আয় কাঠামোতে সমন্বয় আনতে হবে।



