শেরপুরের স্রীবর্দি উপজেলা ইউনিটের জামাতের সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ রেজাউল করিম, ৪২ বছর বয়সী, বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৯:৪৫ টায় মিমি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘটিত মারামারিতে গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
মাওলানা রেজাউল করিমের পরিচয় জামাতের স্রীবর্দি উপজেলা শাখার সেক্রেটারি হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তিনি শেরপুরের জামাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর জামাতের শেরপুর-৩ (ঝেনাইগাটি‑স্রীবর্দি) প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদাল থেকে প্রকাশিত হয়।
বিকাল সময়ে শেরপুরে জামাত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে এবং তা মারামারিতে রূপ নেয়। উভয় দলের সমর্থকরা একে অপরের ওপর আক্রমণ চালায়, ফলে সংঘর্ষের ফলে প্রায় ৫০ জন জামাতের কর্মী ও সমর্থক আহত হয়। এই সংঘর্ষে রেজাউল করিমসহ কয়েকজন নেতা সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হন।
আহতদের সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি বলে জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে রেজাউল করিমের পাশাপাশি দুইজন অন্যজন, আমিনুল ইসলাম ও মাওলানা তাহিরুল ইসলাম, ও হাসপাতালে ভর্তি হন। রেজাউল করিমের আঘাতের মাত্রা গুরুতর হওয়ায় তাকে তৎক্ষণাৎ মিমি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
রেজাউল করিমের পাশাপাশি আমিনুল ইসলাম ও মাওলানা তাহিরুল ইসলামকে একই হাসপাতালে রেফার করা হয়। রেজাউল করিমের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৯:৪৫ টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অন্য দুইজনের অবস্থার বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, তাহিরুল ইসলামকে পরে ঢাকা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
নুরুজ্জামান বাদাল, যিনি শেরপুর-৩ থেকে জামাতের প্রার্থী, তিনি এই ঘটনার পরামর্শে জানান যে রেজাউল করিমের সঙ্গে ৫০ জনেরও বেশি জামাতের কর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, রেজাউল করিমের মৃত্যু একটি বড় ক্ষতি এবং এই ঘটনার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন হওয়া দরকার।
বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ বা পূর্বের কোনো বিরোধের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে উভয় দলের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা গিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত মারাত্মক আঘাতে রূপ নেয়।
মিমি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা দল রেজাউল করিমের আঘাতের তীব্রতা নিয়ে মন্তব্য করেনি, তবে জানানো হয়েছে যে তিনি হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুবরণ করেন।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। শেরপুরের পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বিবরণ সংগ্রহের জন্য কাজ করছে।
ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তবে সরকারী সূত্র থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
শেরপুরে এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘর্ষের ফলে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং সংঘাতমুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, মাওলানা মোঃ রেজাউল করিমের মৃত্যু শেরপুরের রাজনৈতিক মঞ্চে একটি শোকের মুহূর্ত এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান বাড়িয়ে তুলবে।



