সৌদি আরবের রাজ্য রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য পাসপোর্ট জারি করেছে, যা তাদেরকে বাংলাদেশ সরকারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এই পদক্ষেপটি ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে জাতীয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং একই দিনে আপডেট করা হয়।
সৌদি সরকার প্রকাশ করেছে যে শরণার্থীদের জন্য মোট ১,৫০০টি পাসপোর্ট প্রদান করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বৈধ পরিচয়পত্রের অধিকার প্রদান করে। পাসপোর্টগুলোকে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
জাতীয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাসপোর্ট প্রদান মানে তারা বাংলাদেশ সরকারের নাগরিক নয় এবং তাদের আইনি অবস্থান আলাদা। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং রোহিঙ্গা জনগণের স্বায়ত্তশাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইন অনুসারে, কোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের নাগরিক না হয় তবে তাকে দেশের অধিবাসী হিসেবে গণ্য করা হয় না। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উপর এই নতুন পাসপোর্টের প্রভাব নিয়ে আইনগত বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, কারণ এটি শরণার্থীদের অধিকার ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশ সরকার এই পদক্ষেপকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে গ্রহণ করেছে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত স্পষ্টতা দাবি করেছে। বাংলাদেশ সরকার জোর দিয়ে বলেছে, রোহিঙ্গা জনগণ এখনও দেশের সীমান্তে বসবাসকারী শরণার্থী এবং তাদের ওপর বাংলাদেশের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা এই বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারত ও মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে, আর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ পুনর্বাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি পাসপোর্টের প্রয়োগ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমার ফিরে যাওয়ার আলোচনায় নতুন জটিলতা যোগ করেছে। মিয়ানমার সরকার পূর্বে রোহিঙ্গা জনগণকে স্বেচ্ছায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছিল, তবে পাসপোর্টের মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্বের প্রশ্ন উত্থাপিত হলে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, বিদেশি পাসপোর্টধারী ব্যক্তি যদি বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করে তবে নির্দিষ্ট শর্তে নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্ষেত্রে এই শর্তগুলো কীভাবে প্রয়োগ হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, যা ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা তৈরি করে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশ সরকার, সৌদি আরব এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে। এই আলোচনায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাসপোর্টের বৈধতা, তাদের মানবিক অধিকার এবং মিয়ানমার সঙ্গে পুনর্বাসন চুক্তির বাস্তবায়ন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।



